জাতীয় ডেস্ক :
কলেরার ঝুঁকিপূর্ণ ঢাকার পাঁচটি এলাকায় আগামী ২৬ জুন থেকে কলেরার মুখে খাওয়ার টিকা দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।
সোমবার (১৪ জুন) রাজধানীর মহাখালীর আইসিডিডিআর,বির এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এ টিকাদান কার্যক্রমের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। গর্ভবতী নারী ছাড়া এক বছরের বেশি বয়সী মানুষকে মুখে খাওয়ার এই টিকা দেয়া হবে।
জাহিদ মালেক বলেন, কলেরার টিকা আইসিডিডিআর,বি তৈরি করেছে। এটা খুবই কার্যকর। যেখানে যেখানে কলেরার টিকা নিয়েছিলো, সেখানে কিন্তু কলেরা খুব একটা দেখা দেয়নি। এমনকি রোহিঙ্গাদেরও কলেরা টিকা দেয়া হয়েছে। আমরা দেখেছি কলেরা রোগী খুব একটা পাওয়া যায়নি। সে কারণে এখন সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আগামী ২৬ তারিখে আমরা কলেরা টিকা কার্যক্রম শুরু করবো।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কলেরার টিকা বিষয়ে আমরা আজকেও আলোচনা করেছি। আরও আগেই এই টিকা কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যেসব জায়গায় আমরা টিকা পাঠিয়েছি, সে জায়গাগুলোতে কলেরা সংক্রমণ কমে এসেছে। টিকা দেয়ার জন্য প্রতিটি কেন্দ্রে সকল ধরনের প্রস্তুতি শেষ হয়েছে।
মার্চের মাঝামাঝি সময়ে এসে ঢাকায় ডায়রিয়া পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। এ সময় ঢাকার মহাখালীর আইসিডিডিআর,বির কলেরা হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়ায়।
সে সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছিল, ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব কমাতে এপ্রিলে ঢাকায় ২৩ লাখ মানুষকে কলেরার টিকা খাওয়ানো হবে। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, দক্ষিণখান, মিরপুর, মোহাম্মদপুর ও সবুজবাগ এলাকায় কলেরার টিকা খাওয়ানো হবে। এসব এলাকার বাসিন্দাদের টিকা পেতে কোনো নিবন্ধনের প্রয়োজন হবে না।
২৬ মার্চ কলেরা টিকা কর্মসূচির উদ্বোধন করে টিকার প্রথম ডোজ খাওয়ানো হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। দ্বিতীয় ডোজ খাওয়ানোর তারিখ পরে জানানো হবে বলে জানান তিনি।
এ সময় করোনা সংক্রমণ বাড়ায় শঙ্কা প্রকাশ করে জাহিদ মালিক বলেন, গত মাসেও করোনা সংক্রমণের হার এক শতাংশের নিচে ছিল। কিন্তু এখন দুই শতাংশে উঠে এসেছে। প্রতিদিন যেখানে দৈনিক ৩০ থেকে ৩৫ জন রোগীর করোনা শনাক্ত হতো, এখন সেটা বেড়ে হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ জন। এই মুহূর্তে পরীক্ষা বাড়ানো হলে সংক্রমণের হারও বেড়ে যাবে। আমরা যেভাবে অসতর্ক হয়ে চলাচল করছি, হাসপাতালে রোগী বাড়তে সময় লাগবে না। তাই আমাদের স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে আরও সতর্ক হতে হবে। আপনারা সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনেই সব কাজ করবেন, এটি আমরা আশা করবো।
