হোম অর্থ ও বাণিজ্য বাজেটে কমল করপোরেট করহার, তবে…

বাণিজ্য ডেস্ক :

ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরেই করপোরেট করহার কমানোর দাবি করেছেন। ফলে টানা তিন বছর তাদের এ দাবি রাখলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির করহার কমানো হয়েছে। তবে এ হ্রাসকৃত করপোরেট করহারের সুবিধা পেতে হলে মানতে হবে বেশ কিছু শর্ত।

ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাপক প্রসারের লক্ষ্যে বিগত ২০২১ সালের অর্থ আইনে করপোরেট করহার ৩২ দশমিক ৫০ থেকে ৩০ শতাংশ করা হয়। তার সত্ত্বেও এবারের বাজেটে করপোরেট করহার কমানোর দাবি করেছিলেন ব্যবসায়ীরা। এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই বাজেটে করপোরেট করহার এবারও আড়াই শতাংশ কমিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০২২-২৩ অর্থবছরে করপোরেট করহার আরও কমানোর প্রস্তাব করছি। এ ক্ষেত্রে সকল প্রকার প্রাপ্তি ও আয় অবশ্যই ব্যাংক স্থানান্তরের মাধ্যমে গৃহীত হতে হবে এবং ১২ লাখ টাকার অতিরিক্ত ব্যয় ও বিনিয়োগ অবশ্যই ব্যাংক স্থানান্তরের মাধ্যমে সম্পাদন করতে হবে। এ শর্তে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির করহার ৩০ শতাংশ থেকে ২৭ দশমিক ৫ শতাংশে হ্রাস করা হবে। এ ছাড়া পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার বর্তমানে সাড়ে ২২ শতাংশ। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে যারা পরিশোধিত মূলধনের ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার আইপিওর মাধ্যমে বাজারে ছেড়েছে, তাদের করপোরেট কর কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয়েছে।

সুতরাং, এসব শর্ত পূরণ না হলে কোম্পানিগুলো করহার কমানোর সুবিধা ভোগ করবে না। সে ক্ষেত্রে আগের মতোই কর দিতে হবে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের ১০ শতাংশ বা তার কম শেয়ার আইপিওর মধ্যে স্থানান্তরিত করেছে, এসব কোম্পানি শর্ত পূরণ না করতে পারলে বিদ্যমান ২২ দশমিক ৫ শতাংশ করের পরিবর্তে ২৫ শতাংশ দিতে হবে।

অপরদিকে বর্তমানে পাবলিকলি ট্রেডেড কোম্পানির করহার ৩০ শতাংশ, যেটি কমিয়ে ২৭ শতাংশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এক ব্যক্তির কোম্পানির কারহার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২২ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। আবার ব্যক্তিসংঘ ও কৃত্রিম ব্যক্তিসত্তা ও অন্যান্য করযোগ্য সত্তার করহার ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে শর্ত প্রযোজ্য থাকবে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক (মার্চেন্ট ব্যাংক ব্যতীত) প্রতিষ্ঠানের করহার ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ এবং তালিকাভুক্ত নয় এমন প্রতিষ্ঠানের করহার ৪০ শতাংশ।

এ ছাড়া ব্যাংক-বিমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, সিগারেট, মোবাইল ফোন অপারেটর প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য শ্রেণির করপোরেট করহার আগের মতোই থাকবে। বর্তমানে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত মোবাইল ফোন অপারেটর কোম্পানির করহার ৪০ শতাংশ এবং তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির করহার ৪৫ শতাংশ।

এদিকে সিগারেট, বিড়ি, জর্দা, গুলসহ সকল প্রকার তামাকজাত পণ্য প্রস্তুতকারী কোম্পানির করহার ৪৫ শতাংশ।

সব রফতানি খাতের কোম্পানির করহার ১২ শতাংশ এবং গ্রিন কোম্পানির ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অপরদিকে তৈরি পোশাকসহ রফতানি খাতের উৎস করহার বাড়িয়ে ১ শতাংশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া আগামী ৩০ জুন বস্ত্রখাতের সব শিল্পের ১৫ শতাংশ করহারের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। এর মেয়াদ ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন