হোম জাতীয় কুষ্টিয়ায় কলেজছাত্র হত্যায় ২ আসামির যাবজ্জীবন

জাতীয় ডেস্ক :

কুষ্টিয়া মিরপুর উপজেলায় ফিরোজ (২৫) নামে এক কলেজছাত্র হত্যার দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ সময় তাদের ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়, অনাদায়ে তাদের আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

রোববার (৫ জুন) দুপুরে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় দুই আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাদের কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার নারায়ণপুর দহকোলা গ্রামের মৃত আকছার মোল্লার ছেলে ইন্তাদুল হক ও একই এলাকার মো. জালেম ওরফে জালু মোল্লার ছেলে রুহুল আমীন।

আদালত সূত্র জানায়, সাজাপ্রাপ্তদের দণ্ডবিধি ১৯৬০ এর ৩০২ ধারা ও ৩৪ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে প্রত্যেককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। এ সময় সাজা পরোয়ানা এবং জরিমানা আদায়ের জন্য ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৮৬(১)(ক) ধারায় পরওয়ানা ইস্যু করা হয়।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৩ সালের ২৫ জুন সন্ধ্যা ৭টার দিকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার নারায়ণপুর দহকোলা গ্রামের মো. আব্দুর রহিমের ছেলে ফিরোজকে (২৫) ইন্তাদুল হক ও মো. জালেম বেড়ানোর কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। এর পর থেকে ফিরোজের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিলো না।

পরে একই দিন রাত ১১টার দিকে একটি মাইক্রোবাসে ফিরোজের মৃতদেহ তার নিজ বাড়ির সামনে রেখে আসামি রহুল আমীন পালিয়ে যান। এ সময় ফিরোজের মাথার পেছনে বাম পাশে ও বাম পায়ের হাঁটুতে এবং দুই পায়ে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়।

খবর পেয়ে ফিরোজের বাবা মো. আব্দুর রহিম বাঁশ বাগানের কাছে গিয়ে ফিরোজের পরিচিতদের কাছ থেকে জানতে পারেন, ফিরোজ ইন্তাদুল হক ও রহুল আমীনের সঙ্গে কলেজ মেসে ছিলেন।

এরপর ফিরোজ রোকনুজ্জামান ও সজিবের সঙ্গে মোবাইল রিচার্জ করতে মেস থেকে বেড় হন। এর কিছুক্ষণ পর আসামি ইন্তাদুল হক ফিরোজের মোবাইলে কল করে তার অবস্থান জানেন; তার পর ইন্তাদুল হক ও রুহুল মোটরসাইকেলে মিরপুর উপজেলার বাঁশ বাগানের কাছে এসে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বেপরোয়া গতিতে ফিরোজের দুই পায়ের মাঝে ধাক্কা দেয়। এতে ফিরোজ পাকা সড়কের ওপর পড়ে আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মিরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করে।

এ ঘটনায় নিহত ফিরোজের বাবা পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগে এনে ইন্তাদুল হক ও রুহুল আমীনকে আসামি করে ঘটনার পরের দিন ২০১৩ সালের ২৬ জানুয়ারি মিরপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা এস এম ইকবাল ১৩ এপ্রিল আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

৯ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে সোমবার (৫ জুন) রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন আদালত। অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আসামিদের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন