জাতীয় ডেস্ক :
কালবৈশাখি ঝড়ে লন্ডভন্ড রংপুর ও লালমনিরহাটের বিভিন্ন গ্রামে এখনো খোলা আকাশের নিচে জীবন বাঁচাতে লড়াই করছে আশ্রয়হীন শত শত মানুষ।
মঙ্গলবার (২৬ এপ্রিল) রাতে প্রচণ্ড ঝড় ও শিলাপাতের সময় আহত পাঁচ শিশুসহ বেশ কিছু মানুষ কাতরাচ্ছেন হাসপাতালের বিছানায়।
ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ সম্ভব না হলেও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নগদ পাঁচ লাখ টাকা, শুকনো খাবার ও তিন মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে লালমনিরহাট সদরের আদর্শ বাজার, বাঁশদহ, রংপুরের হারাগাছের টাংরির বাজার, মিলন বাজার ও হরিণচড়াসহ আশপাশের বেশকিছু গ্রাম ঘুরে ক্ষতিগ্রস্ত অনেককে নিরুপায় বসে থাকতে দেখা গেছে।
মাত্র ২০ মিনিটের এই ঝড় নিঃস্ব করেছে এসব গ্রামের কয়েকশ পরিবার। ঘরবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে এখনো এসব গ্রামে কয়েকশ নারী-পুরুষ আহাজারি করছেন। ঝড়ের তাণ্ডবে আহত এসব গ্রামের অন্তত আটজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। যার মধ্য শিশুই পাঁচজন।
ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে আকাশ হঠাৎ কালো হয়ে আসে এবং প্রবল বেগে ঝড় শুরু হয়। বাতাসের তীব্র বেগে উড়ে যায় আধা-পাকা ও কাঁচা বাড়িঘর। উপড়ে যায় অসংখ্য গাছপালা। ক্ষেতের পাকা ধানসহ অন্যান্য ফসলেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তারা।
ঝড়ের আঘাতে পরিবারের সদস্যরা একেকজন একেক স্থানে আশ্রয় নিয়ে রাতভর অন্ধকারে কাটিয়ে দেন। সকালে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পাঁচ শিশুসহ অন্তত আটজনকে আহতাবস্থায় উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করেন।
কালবৈশাখির তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলো বুধবার বিকেলেও ঘুরে দেখা গেছে, গাছের মগডালে ঘরের চাল ঝুলে আছে। উপড়ে পড়ে আছে বড় বড় গাছ। শুয়ে গেছে পাকা ধানক্ষেতের পর ক্ষেত। ঘরের আসবাব, মজুত করে রাখা চাল, আলু, পেঁয়াজের সঙ্গে উধাও হয়ে গেছে শিশুদের পাঠ্যবইসহ সবকিছু। অনেককে শূন্যভিটায় শুয়ে আহাজারি করতে দেখা গেছে।
বুধবার রংপুর ও লালমনিরহাট জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাম পরিদর্শন করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ত্রাণ ও পুনর্বাসন দফতরকে নির্দেশ দিয়েছেন। এখনো ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা সম্ভব না হলেও ক্ষতিগ্রস্ত রংপুরের ৪টি উপজেলায় ৫ লাখ টাকা, ২০০ জনের জন্য শুকনো খাবার ও ৩ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছেন বলে জানান রংপুরের জেলা প্রশাসক আসিব আহসান।
লালমনিরহাটের ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তারও উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক আবু জাফর। তিনি আরও জানান, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের পর উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
