বাণিজ্য ডেস্ক :
ঈদের আগমুহূর্তে এসে বাজারে আবারও ভোজ্যতেলের সংকট দেখা দিয়েছে। পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, হঠাৎ করেই বেশির ভাগ মিলমালিক তেলের সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছেন। দু-একটি প্রতিষ্ঠান অল্প পরিমাণ সয়াবিন তেল সরবরাহ করলেও ব্যবসায়ীদের অন্য পণ্য কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে।
অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা আবুল বাশার মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট নতুন বাজারে তেল কিনতে এসেছেন। অথচ পুরো মার্কেট ঘুরে নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের তেল পাননি বলে দাবি করেন তিনি।
আবুল বাশার বলেন, ‘আমি দুদিন আগেও বাজারে রূপচাঁদা তেল দেখেছি। আমার কাছে ৭৫০ টাকা করে চেয়েছে। তবে আজ বাজারে এসে রূপচাঁদা তেল পাইনি। সেই সঙ্গে অন্যান্য ব্র্যান্ডের তেলের দাম বেশি চাইছে। আগে যে তেলের দাম ৭৪০ টাকা ছিল, তা এখন ৭৬০ টাকা চাচ্ছে।’
আবার অন্য ব্র্যান্ডের তেল স্বল্প পরিমাণে মিললেও দাম বাড়তি চাওয়ার অভিযোগ করেন ক্রেতারা। তারা বলেন, যে তেল আমরা প্রতি লিটার ১৪০ টাকা করে কিনতাম, এখন তা ১৬০ টাকা চাইছে। এখন প্রতিটি পণ্যের দামই যদি ১০-২০ টাকা করে বাড়ে, তাহলে আমরা কীভাবে চলব।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে পামওয়েল ও খোলা সয়াবিন তেলের সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। যাদের কাছে মজুত রয়েছে, তারা আকাশচুম্বী দাম হাঁকাচ্ছেন। পাইকারি বিক্রেতারা বলছেন, এক ড্রাম পামওয়েল ৩১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে সরকার নির্ধারিত দাম ২৬ হাজার ৫২০ টাকা। এক ড্রাম খোলা সয়াবিন ৩৩ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ, সরকার প্রতি লিটার ১৩৬ টাকায় বিক্রি করতে বললেও পাইকারিতেই ১৬৪ টাকা দাম পড়ছে।
বাজারে তেলের সংকটের বিষয়ে বিক্রেতারা বলেন, তেলের সংকট এখনই দেখা দিয়েছে। ঈদের আগেই এ অবস্থা থাকলে ঈদের পর এ সংকট আরও বড় রূপ নিতে পারে। পামতেল ও খোলা সয়াবিন তেলের সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। উভয়ের দাম সরকারের নির্ধারিত দরের তুলনায় অনেক বেশি। এদিকে আমরা তেল কিনতে গেলে কোম্পানি স্লিপ দিচ্ছে না।
এদিকে খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, দু-একটি প্রতিষ্ঠান বাজারে স্বল্প পরিমাণে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ রেখেছে। তবে তা কিনতে হলে মুড়ি, হালিম মিক্সের মতো অপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে এক বিক্রেতা বলেন, ‘অবস্থা বলতে বাজারে তেল নেই। এক কার্টন তেল কিনতে হলে আমার অন্যান্য পণ্যও কিনতে হবে। একটা নিলে আরেকটা নিতে হবে। যেমন, তেলের সঙ্গে সরিষার তেল, মুড়ি বা ফালুদা বা ক্ষীর মিক্স নিতে হবে। না নিলে তেল দেবে না।’
সরকার মিল পর্যায়ে আবারও নজরদারি না বাড়ালে ঈদের আগে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা করছেন পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা।
