বিনোদন ডেস্ক :
জনপ্রিয় বলিউড অভিনেতা সঞ্জয় দত্ত। যে মানুষটি ড্রাগের নেশায় একসময় বুঁদ হয়ে থাকতেন দিনরাত, সে কাহিনী কারো অজানা নয়। ‘খলনায়ক’ সিনেমাখ্যাত এই অভিনেতা ১২ বছর মাদকাসক্ত ছিলেন। মাদকসেবনের বিষয়টি নিজেই স্বীকার করেছেন এ তারকা।
এ ছাড়া এমন কোনো মাদক নেই যেটি তিনি সেবন করেননি, তার পাশাপাশি বেআইনি অস্ত্র রাখার অপরাধে আইনি ঝামেলায় জড়াতে হয়েছে তাকে বহুবার। যদিও বছরখানেক আগে জেল থেকে বের হওয়ার পর থেকে বলা যায় শুধরে গিয়েছেন তিনি।
এদিকে সম্প্রতি সঞ্জয় দত্ত অভিনীত ‘কেজিএফ-চ্যাপটার টু’ সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছে। বক্স অফিসে রীতিমতো ঝড় তুলেছে এটি। এই সিনেমার প্রচারের অংশ হিসেবে একটি সাক্ষাৎকারে অংশ নেন সঞ্জয়। সেখানে মাদক সেবনের বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। ভাগ করে নিলেন একসময় কীভাবে তাকে ‘চরসি’ নামে ডাকা হত, রিহাবেশন সেন্টার থেকে ফেরত আসার পর। যদিও এই প্রথম নয়, এর আগেও সঞ্জয় তার ড্রাগস নেওয়ার স্বভাব নিয়ে কথা বলেছেন বহু জায়গায়। সাক্ষাৎকারে সঞ্জয় দত্ত তার পুরনো সময়ের কথা বলেন, যখন তিনি ভাবতেন ড্রাগস নিলেই তাকে কুল লাগবে।
এ ছাড়া মাদকাসক্ত হওয়ার পর জীবনের ১০ বছর ঘর অথবা বাথরুমে নিজেকে বন্দি রেখেছিলেন সঞ্জয়। এমনকি মাদক নিরাময় কেন্দ্র থেকে ফেরার পরও তাকে মাদকাসক্ত বলা হতো। সঞ্জয় আরও জানান, “আমি মনে করি এটি ঠিক নয়। রাস্তাঘাটে মানুষ এগুলো বলত। তখন ভাবতাম, আমাকেই কিছু করতে হবে। এরপর নিয়মিত ব্যায়াম শুরু করি। নিজের ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনি।”
‘কি যাতনা বিষে, বুঝিবে সে কিসে, কভু আশীবিষে দংশেনি যারে…। কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারের কবিতার ভাবার্থের সঙ্গে মিল রেখে বলা যায় মাদকের দংশনে যে পড়েছে, সে জানে এর ভয়াবহতা। তাই হয়তো এই তারকা নিজের সেই কঠিন সময়ের কথা বারবার নিয়ে আসেন তার দর্শক ও ভক্তকুলের সামনে। ‘চরসি’ থেকে ’বডি বিল্ডার’, মানুষের ডাক কীভাবে পাল্টে যায়, আবারও মনে করিয়ে দিলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা সঞ্জয় দত্ত।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
