হোম অর্থ ও বাণিজ্য কেবল স্বয়ংসম্পূর্ণতা নয়, বিদেশে রফতানি হবে পেঁয়াজ: কৃষিমন্ত্রী

বাণিজ্য ডেস্ক :

ভোলায় কৃষিজমি ও মাঠ পরিদর্শনকালে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, পেঁয়াজে বাংলাদেশ কেবল স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েই থেমে যাবে না। এরপর থেকে বিদেশে পেঁয়াজ রফতানিতে সক্ষম হবে বাংলাদেশ।

ভোলার লবণাক্ত জমিতে চাষ হচ্ছে ব্রি ধান ৬৭, বিনা ধান-১০, ভুট্টা, মুগ, সয়াবিন, সূর্যমুখী, শসার আবাদ দিন দিন বাড়ছে। এছাড়া, পেঁয়াজ, বার্লি, পুঁইশাকসহ বিভিন্ন সবজি ফসল চাষ খুবই সম্ভাবনাময়। সরকারের প্রণোদনা পুনর্বাসন কার্যক্রমের ফলে এসব আবাদ দিন দিন বাড়ছে।

রোববার (১০ এপ্রিল) ভোলার সদর উপজেলার চর মনশা গ্রামে সমন্বিত ফল বাগান, বারোমাসি আম, সূর্যমুখী, চিনাবাদমসহ তেল জাতীয় ফসল ও পেঁয়াজ মাঠ পরিদর্শন করেন কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক।

মন্ত্রী বলেন, ‘বছরে ৮-১০ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়। আমাদের প্রয়োজনের সময় ভারত পেঁয়াজ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়। ফলে দেশে দাম বেড়ে যায়। আমরা পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে চাই। ভোলায় বারি উদ্ভাবিত বারি-৪ পেঁয়াজের ফলন ভালো ও সুস্বাদু। এটিকে আমরা সারা দেশে ছড়িয়ে দেব। পেঁয়াজে শুধু স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন নয়, ২-৩ বছর পরে পেঁয়াজ রফতানিও করতে পারব।’

পরিদর্শনকালে কৃষিসচিব মো. সায়েদুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক বেনজীর আলম, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) মহাপরিচালক মো. শাহজাহান কবীর, ভোলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও কৃষি সম্প্রসারণের উপপরিচালক উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রী বলেন, ‘ভোলার মাটি উর্বর। এখানে আমাদের বিজ্ঞানীরা ধান, পেঁয়াজ, ঢেড়স, বেগুন, আম ও লিচুসহ বেশ কিছু ফসলের নতুন জাত উদ্ভাবন করেছেন। এসব জাতের ফলন বেশি। এসব ফসল যদি সফলভাবে ফলানো যায়, তবে কৃষক লাভবান হবেন। কৃষিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। দেশে কৃষি উৎপাদন বাড়বে। পাশাপাশি বিদেশ থেকে আমদানি করতে হবে না।

মাঠে কর্মরত কিছু কৃষি শ্রমিকের সঙ্গে মতবিনিময় করেন কৃষিমন্ত্রী। তাদের কাছে মজুরি, চালের দাম ও কোনো অভাব আছে কিনা জানতে চান মন্ত্রী। শ্রমিকেরা জানান, তারা সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৬টা পর্যন্ত কাজ করে দিনে ৫০০-৫৫০ টাকা মজুরি পান। বাজারে মোটা চালের দাম ৪০-৪৫ টাকা। এতে করে খাদ্য সংকটে পড়তে হচ্ছে না তাদের।

এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আগে এক দিনের মজুরি দিয়ে শ্রমিকেরা ২-৩ কেজি চাল কিনতে পারত, আর এখন কিনতে পারে কমপক্ষে ১০ কেজি চাল। করোনা ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সারা বিশ্বে এই মুহূর্তে খাদ্যপণ্যের দাম রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রভাবে দেশে কিছু নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। এতে মানুষের কষ্ট হচ্ছে, সেটা আমরা স্বীকার করি। কিন্তু দেশে কোনো খাদ্য সংকট নেই ও কোনো মানুষ না খেয়ে নেই।

আব্দুর রাজ্জাক আরও বলেন, কৃষিতে বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হলো কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা ও কৃষককে লাভবান করা। কিন্তু মুনাফাখোর, পাইকার-আড়তদার, মধ্যস্বত্বভোগী, সামাজিক সমস্যা ও চাঁদাবাজির কারণে কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য পায় না।

মধ্যস্বত্বভোগী সারা পৃথিবীতেই আছে। কৃষকেরা তো সরাসরি কাওরান বাজারে পণ্য বিক্রি করতে পারবে না, কাউকে না কাউকে মাঝখানে দায়িত্ব নিতে হবে। কিন্তু মধ্যস্বত্বভোগী যাতে কৃষক এবং ভোক্তাকে শোষণ ও ঠকাতে না পারে, তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। এটি নিশ্চিত করতে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা করছে বলে জানান কৃষিমন্ত্রী।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন