বাণিজ্য ডেস্ক :
পাইকারি বাজারে আমদানি নথিতে গোঁজামিল। পাশাপাশি খুচরাতে নথি জাল করে দাম বাড়ানোর অভিযোগ। তেল বিক্রিতে মানা হচ্ছে না সরকার নির্ধারিত দাম। চট্টগ্রামে পাইকারি ও খুচরা দুই বাজারেই কারসাজির মাধ্যমে ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়ানোর সত্যতা মিলেছে। তাই একযোগে পাইকারি এবং খুচরা বাজারে অভিযান চালিয়ে দামের এ কারসাজি উদঘাটন করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
শনিবার (০৯ এপ্রিল) সকালে তখনও দেশের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জের দোকানপাট খোলেনি। তার আগেই হাজির হয়ে যান জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। হঠাৎ করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটকে দেখে ব্যবসায়ীরাও অনেকটা হতবাক। একে একে আদা-রসুন-পেঁয়াজ হয়ে অভিযান চালানো হয় ডাল-ছোলা-চিনি-ভোজ্যতেল এবং মসলার বাজারেও।
এসময় সব জায়গাতেই দামের অনিয়ম দেখা গেছে। কোথাও মূল্য তালিকা নেই। আবার কোথাও নেই পণ্যের আমদানি নথি। আবার পাইকারি পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ খুচরা পর্যায়েই কারসাজি চলছে।
সকালে হঠাৎ অভিযানের বিষয়ে পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলেন, মাত্র দোকান খুলেছি। আমাদের পণ্য মাত্র নামিয়ে রেখেছি। এখনও মূল্য তালিকা টাঙানো হয়নি। এর মধ্যেই তারা চলে এসেছেন।
পাইকারি বাজারে অভিযান শেষে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, পণ্যের দাম বাড়ার জন্য তারা খুচরা ব্যবসায়ীদের দোষ দিচ্ছেন। তাদের দাবি, পাইকারি পর্যায়ে দাম বাড়ানো হচ্ছে না।
পাইকারি পর্যায়ের অভিযোগ পেয়ে একযোগে খুচরা বাজারেও অভিযান শুরু করে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এখানেও সমানতালে চলছে নানা কারসাজি।
একেক দোকানে একই পণ্যের ভিন্ন দাম। পাইকারি স্লিপের সঙ্গে যেমন বিক্রয় মূল্যের মিল নেই। তেমনি দোকানে টাঙানো মূল্য তালিকায়ও রয়েছে জটিলতা। শুধুমাত্র ভ্রাম্যমাণ আদালতকে ফাঁকি দিতেই যেন এ তালিকা টাঙানো হয়েছে।
তবে খুচরা দোকানিদের দাবি, পাইকারি পর্যায়েই কারসাজি করে দাম বাড়ানো হয়। তারা সেই দাম থেকেই অন্তত ৫ টাকা বেশি দামে পণ্য বিক্রি করছেন। এ বিষয়ে একজন খুচরা বিক্রেতা বলেন, আমরা খাতুনগঞ্জ থেকে পণ্য কিনে নিয়ে আসি। তারা আমাদের স্লিপ দেন। সেই অনুযায়ী আমরা তিন থেকে চার টাকা লাভ করি। পাইকারি ব্যবসায়ীরা তাদের পক্ষে বলেন, আর আমরা আমাদের পক্ষে বলি।
খুচরা বাজারে অভিযান শেষে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুমা জান্নাত বলেন, অভিযান পরিচালনার সময় পাশের দোকানগুলো মূল্য তালিকা টাঙায়। এসব মূল্য তালিকায় যে ক্রয় ও বিক্রয় মূল্য লেখা থাকে, সেগুলো যথাযথভাবে লেখা থাকে না। বিক্রয় মূল্য অনেক বেশি দেওয়া থাকে।
পাইকারি এবং খুচরা এই দুই পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের অনিয়ম ও কারসাজির জন্য জরিমানার পাশাপাশি মৌখিকভাবে সতর্ক করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
