হোম আন্তর্জাতিক প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী বিচারপতি পাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

যুক্তরাষ্ট্রের ২৩৩ বছরের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ মহিলা বিচারপতি পেল সুপ্রিম কোর্ট। যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি পদে কেতানজি ব্রাউন জ্যাকসনের মনোনয়ন নিশ্চিত করেছে দেশটির সিনেট। কেতানজি ব্রাউন জ্যাকসন নামে ওই বিচারপতির নিয়োগ নিয়ে বৃহস্পতিবার ভোটাভুটি হয় সিনেটে। নেতৃত্ব দেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। বিরোধী দল রিপাবলিকান পার্টির তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও ৫৩-৪৭ ভোটে জ্যাকসনকে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে ইতিহাস সৃষ্টি হলো। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোটাভুটির ঐতিহাসিক মুহূর্তটিতে সভাপতিত্ব করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। কেতানজি ব্রাউন জ্যাকসনের পক্ষে ভোট দিয়েছেন সুসান কলিন্স, লিসা মুরকোস্কি ও মিট রমনি। তারা সবাই রিপাবলিকান সদস্য।

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি নিয়োগ প্রশ্নে গত মাসে সিনেট জুডিশিয়ারি কমিটির সামনে চার দিন ধরে শুনানি হয়। তখন ডেমোক্র্যাটরা ৫১ বছর বয়সী কেতানজির অভিজ্ঞতা ও গভীর প্রজ্ঞার প্রশংসা করেছিলেন। কেতানজি প্রায় ১০ বছর ধরে ফেডারেল ও আপিল বিভাগে বিচারক হিসেবে কাজ করেছেন। গত ফেব্রুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তাকে ৮৩ বছর বয়সী বিচারপতি স্টিফেন ব্রেয়ারের স্থলে মনোনীত করেন।

টেলিভিশনে বিচারপতি নিয়োগের ভোট দেখার জন্য কেতানজিকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন জো বাইডেন। ভোটে কেতানজির মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ার পর জো বাইডেন টুইটারে একটি হাস্যোজ্জ্বল ছবি পোস্ট করেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট টুইটারে লিখেছেন, ‘কেতানজির মনোনয়ন নিশ্চিতকরণ ছিল আমাদের জাতির জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ আদালতে যুক্তরাষ্ট্রের বৈচিত্র্য প্রতিফলিত করার আরেকটি পদক্ষেপ নিতে পেরেছি। তিনি একজন অবিশ্বাস্য বিচারপতি হবেন এবং আমি খুবই সম্মানিত বোধ করছি যে, তার সঙ্গে এই ঐতিহাসিক মুহূর্ত ভাগ করে নিতে পারছি।’

১৭৮৯ সালে সুপ্রিম কোর্টের সূচনা থেকে ১১৫ জনের মধ্যে যারা সুপ্রিম কোর্টে কাজ করেছেন, তিনজন ছাড়া বাকি সবাই সাদা। জ্যাকসন হবেন ষষ্ঠ নারী বিচারক। প্রথমবারের মতো একসঙ্গে আদালতে দায়িত্ব পালন করবেন চার নারী।

সুপ্রিম কোর্টে রাষ্ট্রপতির মনোনয়ন আমেরিকার রাজনীতিতে একটি ফ্ল্যাশ পয়েন্ট হয়ে উঠেছে। গর্ভপাত, বন্দুক, ভোটদানের আইন, এলজিবিটি অধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা, মৃত্যুদণ্ড এবং জাতিভিত্তিক অনুশীলন সম্পর্কিত গরম বিষয়গুলোতে আমেরিকান নীতি গঠনে আদালতের উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে।
জ্যাকসন এতে যোগদানের আগে, সুপ্রিম কোর্টকে বড় কিছু মামলার রায় দিতে হয়েছিল যার মধ্যে একটি ১৯৭৩ সালের একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তকে বাতিল করতে পারে, যা দেশব্যাপী গর্ভপাতকে বৈধ করে দেয় এবং আরেকটি যা বন্দুকের অধিকারকে প্রসারিত করতে পারে।

অন্যান্য মহিলা যারা সুপ্রিম কোর্টে কাজ করেছেন, তাদের মধ্যে বর্তমান বিচারপতি অ্যামি কনি ব্যারেট, এলেনা কাগান এবং সোটোমায়র, অবসরপ্রাপ্ত স্যান্ড্রা ডে ও’কনর এবং রুথ ব্যাডার গিন্সবার্গ, যিনি ২০২০ সালে মারা গেছেন।

সিনেটের ভোটাভুটিতে ৫০ জন ডেমোক্র্যাট সদস্যের সঙ্গে ৩ জন রিপাবলিকান সিনেটরও জ্যাকসনের পক্ষে ভোট দেন। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা কেতানজির। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি স্টিফেন ব্রায়ার কয়েক মাসের মধ্যে অবসর নেবেন। তার জায়গায় আসছেন বাইডেনের মনোনীত বিচারপতি কেতানজি ব্রাউন জ্যাকসন। জ্যাকসন শুধু প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী বিচারপতিই হচ্ছেন না, একই সঙ্গে প্রথম পাবলিক ডিফেন্ডার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতির আসনে বসছেন।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন