জাতীয় ডেস্ক :
গালি শুনে সহ্য হয়নি, তাই মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে হত্যা করে মনের ঝাল মিটিয়েছি। গ্রেফতারের পর পুলিশের কাছে দেওয়া প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এমন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে মূলঘাতক মো. সালেহ মুসা।
সোমবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে চাঁদপুরের বিচারিক হাকিমের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন অভিযুক্ত মো. সালেহ মুসা। মূলত পাওনা নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে আবুল বাশারকে এমন নৃশংসভাবে হত্যা করেন মো. সালেহ মুসা।
এ সময় কীভাবে সঙ্গীদের নিয়ে আবুল বাশারকে হত্যা করেছে তারও বর্ণনা দেন তিনি। পরে আদালতের নির্দেশে অভিযুক্তকে জেল হাজতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
এর আগে সকালে পুলিশ অভিযান চালিয়ে কচুয়া থেকে গ্রেফতার করে মূল ঘাতক মো. সালেহ মুসাকে।
পুলিশ জানায়, গত শনিবার বিকেলে মোবাইল ফোনে আবুল বাশারকে (৩৫) ডেকে নিয়ে যায় মাছ ব্যবসায়ী সালেহ মুসা। তারপর থেকে নিখোঁজ ছিলেন আবুল বাশার। ওই রাতে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
এরপর বেরিয়ে আসে মূল ঘটনা। মূলত পাওনা টাকার জের ধরে কচুয়া বাজার থেকে পাশের বিশ্বরোডে ডেকে নিয়ে যায় মো. সালেহ মুসা। তারপর সেখানে তার দোকানের ভেতর আরও কয়েকজন মিলে আবুল বাশারকে গলা কেটে হত্যা করে। এ ঘটনার পর খুব ঠাণ্ডা মাথায় লাশ গুমের উদ্দেশ্যে কুমিল্লার দাউদকান্দিতে নিয়ে যায় ঘাতকরা।
পরে একটি ড্রামে আবুল বাশারেরে মরদেহ ফেলে রাখা হয়। গতকাল রোববার সেখানে একটি ড্রাম থেকে তার গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরইমধ্যে পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ এবং আদালতের জবানবন্দি দিতে গিয়ে মো. সালেহ মুসা তার স্বীকারোক্তিতে জানান, ব্যবসার প্রয়োজনে আবুল বাশারের সঙ্গে বিকাশে লেনদেন করতেন তিনি। এরমধ্যে প্রায় দুই লাখ টাকা দেনা হন আবুল বাশারের কাছে। কিন্তু সময় মতো টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হন তিনি। যার কারণে আবুল বাশার তাকে গালমন্দ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মোবাইল ফোনে ডেকে নেন তাকে। পরে আরও কয়েকজনের সহায়তায় দোকানের ভেতর গলা কেটে হত্যা করা আবুল বাশারকে।
এদিকে এ ঘটনায় দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান নিহতের পরিবার।
নিহত আবুল বাশারের স্ত্রী ডলি আক্তার জানান, সালেহ মুসার কাছে প্রায় দুই লাখ টাকা পেতেন তার স্বামী। এরমধ্যে এক লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে যায়। পরে কয়েকজন মিলে তার স্বামীকে গলা কেটে নির্মমভাবে হত্যা করে। স্বামীকে হারিয়ে কোলের এক মাসের শিশুসহ আরও দুই শিশুকে নিয়ে কোথায় যাবেন-এমন কষ্টের কথা বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
কচুয়া থানার ওসি মো. মহিউদ্দিন জানান, ঘটনার পরপরই থানায় সাধারণ ডায়েরির সূত্র ধরে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করে। এতে প্রমাণ মেলে সালেহ মুসা এবং তার সহযোগীরা আবুল বাশারকে হত্যা করে কুমিল্লায় মরদেহ গুম করে।
আরও পড়ুন: আসামির স্বীকারোক্তি: মুখে অ্যাসিড ঢেলে পানিতে চুবিয়ে হত্যা
চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, (প্রশাসন ও অর্থ) সুদীপ্ত রায় জানান, পুলিশ ঘটনার পরপরই হত্যাকাণ্ডের ক্লু বের করতে মাঠে নামে। মাত্র ২৪ ঘণ্টা পর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে সোমবার সকালে পুলিশ অভিযান চালিয়ে কচুয়া থেকে গ্রেফতার করে মূলঘাতক মো. সালেহ মুসাকে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আরও কয়েকজন জড়িত রয়েছে। তাদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে দুপুরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আবুল বাশারের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। বিকেলে মরদেহ গ্রামের বাড়ি কচুয়ার কোয়ায় পৌঁছায়। পরে জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়।
