হোম অর্থ ও বাণিজ্য লোকে লোকারণ্য কক্সবাজার পর্যটনকেন্দ্র

বাণিজ্য ডেস্ক :

টানা ছুটিতে কক্সবাজারে ঢল নেমেছে পর্যটকের। বিনোদনপ্রেমীরা মেতেছেন জেড স্কি, ঘোড়া, টিউব, ছবি তোলা ও নোনাজলে। এতে আয় বেড়েছে সৈকতের হকারদের। টুরিস্ট পুলিশের দাবি, পর্যটকদের নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (১৮ মার্চ) সকালে সুগন্ধা পয়েন্টে দেখা যায়, সাগরতীরের কাছাকাছি রয়েছে জেড স্কি। এতে চড়েই নীল জলরাশি উপভোগে কয়েক মিনিটের জন্য ঘুরছেন পর্যটকরা। আর প্রবেশদ্বারের বালিয়াড়িতে ঘোড়ায় চড়ে অনেক পর্যটক ঘুরছেন, আবার অনেকেই ঘোড়ার পিঠে উঠে ছবি তুলছেন।

শুধু ওয়াটার বাইক বা ঘোড়া নয়, টানা ছুটিতে কক্সবাজার সৈকতে আসা পর্যটকরা সাগরের নোনাজলে টিউবে গা ভাসাচ্ছেন। আবার অনেকে ঢেউয়ের সঙ্গে গোসলে মেতেছেন। আর আনন্দের এসব দৃশ্যের স্মৃতি ধরে রাখতে তুলছেন ছবি।

পাঁচ বছরের সন্তান সোয়েবকে নিয়ে ১০ মিনিট নীল সাগরের পানিতে জেড স্কি নিয়ে ঘুরে এলেন বাবা ইমরান আহমেদ। জেড স্কি থেকে নেমে বললেন, জেড স্কিতে সাগরের নীল জলরাশিতে ভ্রমণ রোমাঞ্চকর। কয়েক মিনিটের ভ্রমণে মনে হয়েছে নীল জলরাশির ওপর দিয়ে হাঁটছি। টানা ছুটিতে কক্সবাজার এসে সত্যিই আনন্দ মেতে আছি।

ঘোড়ার পিঠে উঠে ছবি তুলছেন মিরপুরের রহিম উদ্দিন। তিনি বলেন, কক্সবাজার এলেই আমি ঘোড়ার পিঠে উঠে অবশ্যই একবার হলেও ঘুরে বেড়াই। কারণ, এটা অনেক আনন্দদায়ক। তবে এবার ঘোড়াটা অনেক বড় ছিল এবং দেখতে অনেক সুন্দর। তাই অনেক ছবিও তুললাম।

সাগরের নোনাজলে গা ভাসানো ফরিদা বেগম বলেন, চাকরিজীবী তাই তো, সবসময় কক্সবাজার আসার সময় পায় না। তাই টানা ছুটিতে পরিবারের ১০ জন সদস্য নিয়ে এবার কক্সবাজার এলাম। নোনাজলে গোসল করার পাশাপাশি সবাইকে নিয়ে প্রায় ৫০টির বেশি ছবি তুললাম। যাতে পরবর্তী সময়ে এই ছবিগুলো দেখলেই কক্সবাজার আসার স্মৃতিগুলো মনে পড়ে যায়।

পর্যটকের পদচারণায় ব্যস্ততা বেড়েছে সৈকতের ঘোড়াওয়ালা, জেড স্কি চালক ও ফটোগ্রাফারদের। তারাও বলছেন, টানা ছুটিতে পর্যটক বাড়ায় আয়ও বেড়েছে তাদের।

কলাতলির সৈকতের ঘোড়াওয়ালা কাদের বলেন, পর্যটকরা আর আগের মতো ঘোড়ায় চড়েন না। তাই আয় রোজগারও কম। কিন্তু এখন টানা ছুটিতে অনেক পর্যটক এসেছে। অনেকেই ঘোড়ার পিঠে উঠে ঘুরছেন এবং ছবি তুলছেন। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ২ হাজার টাকা মতো আয় করেছি।

জেড স্কি চালক সোনা মিয়া বলেন, ‘কক্সবাজার সৈকতে পর্যটক এলেই আমরা আনন্দিত হই। কারণ, পর্যটক বাড়লে আয়-রোজগারও বাড়ে। সপ্তাহের অন্যান্য দিন ১০ হাজার টাকা আয় করলেও বৃহস্পতিবার (১৭ মার্চ) ৩০ হাজার টাকা ও শুক্রবার (১৮ মার্চ) দুপুর পর্যন্ত ২০ হাজার টাকা আয় হয়েছে।’

আর টুরিস্ট পুলিশ বলছে, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সার্বক্ষণিক টহলসহ অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

টুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের উপপরিদর্শক আয়ুব আলী বলেন, টানা ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটক আগমন বাড়ায় টুরিস্ট পুলিশও নিরাপত্তা জোরদার করেছে। বিশেষ করে, সমুদ্রসৈকত এলাকা, হোটেল-মোটেল জোন ও পর্যটন স্পটগুলোয় সার্বক্ষণিক টহলের পাশাপাশি বিশেষ টিমও কাজ করছে। তাই পর্যটকরা নিরাপদে কক্সবাজার ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, টানা তিন দিনের ছুটিতে কক্সবাজার ভ্রমণে এসেছেন এক লাখের বেশি মানুষ।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন