আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করছে বাংলাদেশ। হেনরি কিসিঞ্জার যে দেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ আখ্যায়িত করেছিলেন, সেটি এখন বিশ্বের জন্য উন্নয়নের রোলমডেল। বাংলাদেশের জাতীয় আয় বেড়েছে পঞ্চাশ গুণ, মাথাপিছু আয় বেড়েছে ২৫ গুণ। যা প্রতিবেশী ভারত-পাকিস্তানের চেয়েও বেশি। খাদ্য উৎপাদনও বেড়েছে চারগুণ।
কথাগুলো বলছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর ইনস্টিটিউশনাল রিফর্মস অ্যান্ড অস্টারিটি উপদেষ্টা ইশরাত হুসাইন। বৃহস্পতিবার (১৬ ডিসেম্বর) পাকিস্তানি ইংরেজি দৈনিক ডনে লেখা এক নিবন্ধে এই অর্থনীতিবিদ আরও বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যার বৃদ্ধি ছিল আড়াইগুণ, জনপ্রতি খাদ্য সহজলভ্যতাও বেড়েছে।
তিনি জানান, ১৯৯০ সাল থেকে রপ্তানি বেড়েছে শতগুণ, দরিদ্রতা ৬০ শতাংশ থেকে কমে ২০ শতাংশে নেমে এসেছে। গড় আয়ু বেড়ে হয়েছে ৭২ বছর। এরমধ্যে বাংলাদেশের অধিকাংশ সামাজিক সূচক শ্রীলঙ্কা বাদে বাকি দেশগুলোর চেয়ে ভালো। দেশের মানব উন্নয়ন সূচকের মান বেড়েছে ৬০ শতাংশ।
বাংলাদেশের অধিকাংশ অগ্রগতি হয়েছে গত তিন দশকে, যদিও প্রথম দুদশক দুর্বল প্রবৃদ্ধি ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে গেছে। ১৯৯০ সালে পাকিস্তানের মাথাপিছু আয় ছিল বাংলাদেশের দ্বিগুণ। কিন্তু বর্তমানে তা সাত দশমাংশে নেমে এসেছে।
২০১১ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে—করোনা সংক্রমণের আগে—বাংলাদেশের গড় জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল সাত কিংবা আট শতাংশ। পাকিস্তানের চেয়ে যা দ্বিগুণ।
কর্মসূত্রে বাংলাদেশের পটুয়াখালী, চট্টগ্রাম ও ঢাকায় অবস্থান করেছিলেন ইসরাত হুসাইন। বাংলায়ও কথা বলতে পারেন তিনি। নিবন্ধে বলেন, বাংলাদেশের গল্পটি আকর্ষণীয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিপূর্ণ একটি দেশ কীভাবে তার চেয়েও বড় ও উন্নত—ভারত ও পাকিস্তান—প্রতিবেশীর তুলনায় অধিকাংশ সামাজিক-অর্থনৈতিক সূচকে ভালো করেছে? সত্যি বলতে বাংলাদেশ কঠিন পরিস্থিতি পার করেছে।
‘নতুন দেশের জন্য নতুন সরকার গঠন, বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের পুনর্বাসন, দেশটির প্রতিষ্ঠাতা ও শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বের হত্যাকাণ্ড এবং বেশ কয়েকটি বাতিল ও সফল সামরিক অভ্যুত্থান মোকাবিলা করতে হয়েছে দেশটিকে।’
ইসরাত হুসাইন বলেন, দেশটিতে সামরিক বাহিনী ১৯৯১ সাল (প্রকৃত ১৯৭৫-১৯৯০) পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিল। তখন জেনারেল এরশাদ দেশটির সংসদীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এর পর থেকে দেশটির প্রধান দুই রাজনৈতিক দল—শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি ক্ষমতায় আসতে শুরু করে।
এই পাকিস্তানি ব্যাংকার আরও বলেন, ২০০৯ সাল থেকে আওয়ামী লীগ টানা তিনবার নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় এসেছে। এ সময়ে খালেদা জিয়া নির্বাচন বর্জন করেন। তার দলের নেতা-কর্মীরা গ্রেপ্তার হন। তাকেও কারাগারে যেতে হয়। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে যেভাবে অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে, তা সত্যিই আকর্ষণীয়।
