হোম অন্যান্যসারাদেশ মণিরামপুরে গোলাম মোস্তফার ৬ষ্ঠ শাহাদাৎ বার্ষিকী ৬ ডিসেম্বর

 

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি :

৬ ডিসেম্বর-মণিরামপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রয়াত সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফার ৬ষ্ঠ শাহাদাৎ বার্ষিকী। মণিরামপুরের আপামর জনতা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে থাকে দিনটি। এ দিনে মণিরামপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের বার বার নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত গোলাম মোস্তফার শাহাদাৎ বার্ষিকী।

উপজেলার সর্বস্তরের মানুষ তাই দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় স্মরন করাসহ তিনি যেন বিনা হিসেবে জান্নাত বাসি হতে পারেন-সেজন্য তার রুহুর মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করে থাকেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হবার নয়। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও নানা আয়োজনে পালিত হবে সবার প্রিয় মরহুম গোলাম মোস্তফার ৬ষ্ঠ শাহাদাৎ বার্ষিকী।

শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে মরহুমের পরিবার, এলাকাবাসি ও উপজেলা আওয়ামীলীগ আলাদা-আলাদা ভাবে-কোরান খতম, আলোচনা সভা এবং দোয়া-মাহফিলের মধ্য দিয়ে তার রুহের মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করা হবে বলে মরহুমের পরিবার ও আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন।

প্রয়াত গোলাম মোস্তফা শুধু আওয়ামীলীগের আদর্শের মানুষদের কাছে প্রিয়পাত্র ছিলেন না-অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সমর্থক ও অতি সাধারণ মানুষদের কাছেও ছিলেন সমান জনপ্রিয়। সদালপী মানুষ হিসেবে তার পরিচিতিটা একটু বেশিই ছিল। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মণিরামপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ জেলা আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহী পরিষদের দায়িত্ব পালন করেছেন নিষ্ঠার সাথে। জনগণের ভালবাসা ও কর্তব্যপূর্ণ দায়িত্ব পালন করায় আদর্শ নেতার খেতাবটিও পেয়েছেন অতিসাধারণ জনতার কাছ থেকে।

৯০ দশকের পর থেকে দীর্ঘদিন যাবত বাংলাদেশের পুরাতন রাজনৈতিক দল আওয়ামীলীগের মণিরামপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদকরে দায়িত্ব পালনসহ মণিরামপুর আওয়ামীলী প্রেমিক মানুষের একজন ত্যাগী অভিভাবক হিসেবে অভিভূত হয়েছিলেন তিনি। মণিরামপুরবাসি তথা আওয়ামীলীগের সমর্থকেরা ভাগ্যগুনে দলের কঠিন দূঃসময়ে মরহুম গোলাম মোস্তফার মত একজন অভিভাবক পেয়েছিলেন। আজ তার শুন্যতা মণিরামপুরবাসি হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন।

শুধু আওয়ামীলীগ নয়-অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মতাদর্শের নেতাকর্মীদের কাছেও তিনি ছিলেন আদর্শের ও আস্থার প্রতীক। কোন অন্যায়ের সাথে কখনো আপোষ করতেন না তিনি। কারও সাথে প্রতারনা করা বা বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলার চেষ্টাও করতেন না। কেউ কখনো কোন কাজের সুপারিশ নিয়ে তার কাছে আসলে-তিনি সঠিক পন্থাটি বাতলিয়ে দিতেন এবং সমর্থ অনুযায়ী কাজ করে দিতেন। না পারলে বা সমর্থের বাইরে থাকলে অনর্থক হয়রানীর মধ্যে ফেলার চেষ্টা করতেন না।

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পরবর্তীতে ২০০৮ থেকে ধারবাহিক ভাবে রাষ্টীয় ক্ষমতায় থাকলেও অতি উৎসাহী হয়ে নিজের পেশা দলিল লেখক থেকে সরে যায়নি কখনো। এ কাজে তিনি পেশাদারী মনোভাবাপন্ন ছিলেন সর্বদা। নিয়মিত অফিস করা ছিল তার দৈনন্দিন অভ্যাস। এ কাজের পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রাচীন এবং সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দলের উপজেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকেও একচুল পরিমানও সরে যেতেন না তার শততার আদর্শ থেকে। তাইতো নিজের দলিল লেখকের কাজের পাশাপাশি নিজের পৈত্রিক জায়গাতে নিজ খরচে ভবন তৈরী করে দিয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক কার্যালয় করে দিয়েছিলেন।

দলীয় কার্যালয়ে আগত রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের সাথে সময় দিতেন সর্বক্ষণ। তার কাছে আসলে তাদের আদর-আপ্যায়ন করতেও বিন্দু পরিমান ভূল করতেন না। কেউ আসলে কমপক্ষে এক কাপ রং চা না খাইয়ে তিনি যেতে দিতেন না। চায়ের আড্ডার সাথে-সাথে শুনতেন তাদের সূখ-দূঃখের কথা, পারিবারিক ও এলাকার রাজনৈতিক খোজ-খবর নিতেন।

রাজনৈতিকসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে অতি উৎসাহের সহিত আলোচনা করতেন তাদের সাথে। সাধারণ নেতাকর্মীরা তার কথা মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করতেন। অতি দূঃখের মাঝেও নেতাকর্মীরা তার কথায় আস্থা ফিরে পেতেন। ফিরে পেতেন একটু স্বস্থি, সেই মলিন মুখে একটু হলেও বয়ে যেত হৃদয়ে আনন্দের স্পন্দন।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন