হোম ফিচার স্বতন্ত্র প্রার্থীর এজেন্ট যেতে পারেনি কেন্দ্রে! নৌকার প্রার্থী আহত!

 

মোহাম্মদ আরীফুল ইসলাম, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ) :

তৃতীয় ধাপে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫টি ইউনিয়নে ভোট গ্রহণ হয় ২৮ নভেম্বর। বিভিন্ন স্থানে ধাওয়া- পাল্টা ধাওয়া, ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর এজেন্টকে ঢুকতে না দেওয়ার মধ্য দিয়ে শেষ হয় কুলিয়ারচরের নির্বাচন।

সকালে গোবরিয়া- আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের উত্তর গোবরিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মোটরসাইকেল মার্কার স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ সাইফুল ইসলাম গণ মাধ্যম কর্মীদের বলেন, আমার কোন এজেন্টকে কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। কেন্দ্রে নৌকার এজেন্ট যারা আছে তারাই ভোট দিচ্ছে। আজকে সাধারণ জনগণ ভোট দিতে পারছেনা। আমি প্রশাসনের কাছে দুটি কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

এ ব্যাপারে নৌকার প্রার্থী এনামুল হক আবুবক্কর সাংবাদিকদের জানান, এ ঘটনা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। কোন কোন জায়গায় নৌকার এজেন্টের সাথেই বাজে আচরণ করা হচ্ছে।

অভিযোগের সত্যতা জানতে সকাল ১০ টায় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় কোন বুথে নৌকা ছাড়া বিদ্রোহী প্রার্থীর কোন এজেন্ট নেই। তবে ওয়ার্ড সদস্য প্রার্থীদের এজেন্ট ছিলো।

বরচরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল সাড়ে ১০টায় গিয়ে দেখা যায় ৯টি বুথে সুষ্ঠ ভাবে নির্বাচন চলছে। এ কেন্দ্রে ৩৪১৪ ভোট রয়েছে বলে প্রিজাইটিং অফিসার আবু নাছের আব্দুল্লাহ সূত্রে জানা যায়।

সালুয়া ফাযিল ডিগ্রি মাদ্রাসায় ভোটারদের ছিলো উপচে পরা ভীড়। এখানে নতুন ভোটারদের উপস্থিতি ছিলো চোখে পরার মত। সাবিহা ফারহানা নামের এক ভোটার বলেন, ভোট দিয়ে বাড়ি ফিরছি। পছন্দের প্রার্থীকে জীবনের প্রথম ভোট দিতে পেরে আমি খুশি।

সকাল সাড়ে ১১টায় ফরিদপুর মাজার সংলগ্ন আশরাফিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে এসে জানা যায় এখানে ১২১৪ ভোট। মধ্য দুপুর পর্যন্ত এ কেন্দ্রে ৫০ শতাংশ ভোট দেওয়া হয়েছে বলে সহকারী প্রিজাইটিং অফিসার সূত্রে জানা যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নতুন ভোটার বলেন, সামনা সামনি আমাদের ভোট দিতে হয়েছে। নতুন ভোট দিতে এসে আমরা পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা পাইনি।
বেলা ১১ টায় ধূপাখালী ছানাউল হক মাদ্রাসা কেন্দ্রের সামনে দুই মেম্বার প্রার্থীর মধ্যে ধাওয়া- পাল্টা ধাওয়া ও বাড়িঘর ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর থেকে ভোটাররা আতঙ্কিত হয়ে পরে। তবে কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ চলমান ছিলো বলে প্রিজাইটিং অফিসার মোঃ জাহিদুল ইসলাম জানান।

তিনি আরো বলেন, এ কেন্দ্রে ১৬৮৭ ভোট। দুপুর ১.২০ মিনিটে ৮০০ ভোট কাস্ট হয়েছে। গ্রামে গ্রামে ধাওয়া- পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটলেও কেন্দ্রে কোন সমস্যা হয়নি।

বেলা ১২.৪০ মিনিটে ফরিদপুর- আলালপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় ভোটার শূন্য। এ কেন্দ্রে ১০০০ ভোটার। কাস্ট হয়েছে ৭০৭টি।

দুপুর ২.৪৫ মিনিটে সালুয়া ইউপি নির্বাচনের নৌকার মনোনিত চেয়ারম্যান প্রার্থী মোহাম্মদ কাইয়ূমের ওপর হামলা চালায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর লোকজন। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। এর আগে দুপুর ২.৪০ মিনিটে বাজরা- মাছিমপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনের পরিবেশ উত্তপ্ত ও অনুকূলে না থাকায় কেন্দ্রের ভোট বন্ধ করে দেওয়ার ৪০ মিনিট পর আবার কেন্দ্রের ভোটরগ্রহণ চালু করা হয়েছে বলে জানালেন প্রিজাইটিং অফিসার আনিসুর রহমান।

 

 

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন