জাতীয় ডেস্ক :
বগুড়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধা শ্বশুর সোনা মিয়াকে বাবা সাজিয়ে ১১ বছর আগে কোটায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অফিস সহায়ক (পিয়ন) পদে চাকরি পাওয়া সেই জামাই শামীম হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় রাজশাহী সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এসএম শামীম আহমেদ এ সিদ্ধান্ত নেন।
রোববার (১৪ নভেম্বর) বিকালে বগুড়া বগুড়া জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, শ্বশুরকে বাবা দেখিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি নেওয়ার বিষয়ে পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্টের সত্যতা মিলেছে। পরবর্তীতে তদন্তসাপেক্ষে শামীম হোসেনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা ও বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জানা গেছে, আদালতের সাবেক মহুরি মো. শামীম হোসেন বগুড়ার কাহালু উপজেলার নারহট্ট ইউনিয়নের মাধববাঁকা গ্রামের মৃত করমতুল্লাহর ছেলে। তিনি সোনাতলা উপজেলার জোড়গাছার বীর মুক্তিযোদ্ধা সোনা মিয়ার মেয়ে মোছা. ফেনসি খাতুনকে বিয়ে করেন। ফেনসি খাতুন বাবার মুক্তিযোদ্ধা কোটায় মৎস্য অফিসে অফিস সহায়ক পদে চাকরি করেন। তিনি বর্তমানে দুপচাঁচিয়া উপজেলা মৎস্য অফিসে কর্মরত আছেন।
বিয়ের পর মাধ্যমিক পাশ মহুরি শামীম হোসেন সরকারি চাকরি লাভের আশায় শ্বশুর সোনা মিয়াকে বাবা বানানোর উদ্যোগ নেন। তিনি শ্বশুরপক্ষের সহযোগিতায় তার শিক্ষা সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্রে পিতা মৃত করমতুল্লাহর স্থলে শ্বশুর বীর মুক্তিযোদ্ধা সোনা মিয়ার নাম করেন। এমনকি পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্টও নিজের অনুকূলে নেন।
এরপর তিনি মহুরির পেশা ছেড়ে সোনা মিয়ার ছেলে সেজে গত ২০১০ সালের নভেম্বরে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে অফিস সহায়কের চাকরি লাভ করেন। বর্তমানে তিনি দুপচাঁচিয়া উপজেলা কার্যালয়ে কর্মরত।
জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মো. শামীম হোসেনের বাবার নাম পরিবর্তন করে মো. সোনা মিয়া করা হয়েছে। তবে মায়ের সঠিক নাম জাহানারা বেগম রাখেন। বর্তমান ঠিকানা- নারহট্ট ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের উলট্ট পশ্চিমপাড়া এবং স্থায়ী ঠিকানা মাধববাঁকা, কাহালু।
কাহালু উপজেলার নারহট্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রুহুল আমিন তালুকদার বেলাল জানান, শামীম হোসেন ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মাধববাঁকা গ্রামের মৃত করমতুল্লাহর ছেলে।
এর আগে অফিস সহায়ক শামীম হোসেন এ অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
শামীমের স্ত্রী বাবার কোটায় উপজেলা মৎস্য অফিসে অফিস সহায়ক পদে কর্মরত ফেনসি খাতুন জানান, তার ভাই নেই; শামীম বাবাকে দেখভাল করেন। তাই শ্বশুরকে বাবা দেখিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি নিয়েছেন।
