আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
গ্লাসগো সম্মেলনে ম্যারাথন আলোচনার পর শেষ মুহূর্তে চূড়ান্ত চুক্তিতে কয়লার ব্যবহার বন্ধের পরিবর্তে সীমিত করার ভাষা যুক্ত করায় হতাশ পরিবেশবিদরা। এতে চুক্তিটি দুর্বল হয়েছে বলে মনে করছেন তারা। বিশ্লেষকরা বলছেন, এতে জলবায়ু সম্মেলন আয়োজনের লক্ষ্যই পূরণ হওয়া কঠিন।
বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন কপ টোয়েন্টি সিক্সে বেশ কিছু বিষয়ে অসন্তোষ থাকলেও শেষ মহূর্তে অংগ্রহণকারী দেশগুলো মতৈক্যে পৌঁছায়। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই চালানো ও ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে সহায়তার বিষয়ে একমত হয়েছে প্রায় ২০০টি দেশ।
তবে জলবায়ু সম্মেলনে জড়ো হওয়া হাজারো রাজনীতিবিদ ও পরিবেশ কর্মীর জরুরি দাবি সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত যে চুক্তি হয়েছে তাতে বৈশ্বিক উষ্ণতা সমস্যা সমাধান করা যায়নি। এতে পরবর্তী দশকে প্রত্যেক জাতিকে কতটা এবং কত দ্রুত কার্বন নির্গমন কমাতে হবে সেই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি অমীমাংসিতই রয়ে গেছে। এছাড়া, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি তৈরি এবং দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় তহবিলের ঘাটতি পূরণ হয়নি।
চূড়ান্ত চুক্তিতে কয়লার ব্যবহার কমানো বা ‘ফেজ ডাউন’ করার ভাষাটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর আগে সেখানে বন্ধ করা বা ‘ফেজ আউট’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছিল। ভারতের আপত্তির কারণে চূড়ান্ত চুক্তির ভাষা পরিবর্তন করা হয়।
জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার নিয়ে ভাষা পরিবর্তনের নিন্দা জানিয়েছে মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ, মেক্সিকো এবং সুইজারল্যান্ডসহ বেশ কয়েকটি দেশ। অন্যান্য দেশের মতামত ছাড়াই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
সুইজারল্যান্ডের প্রতিনিধি সিমোনেটা সোমারুগা বলেন, শেষ মুহূর্তে কয়লার বিধান পরিবর্তন করা হয়েছে। এ পরিবর্তন বিষয়ে মতামতের কোন সুযোগ দেওয়া হয়নি। কয়লার ব্যবহার শিথিল নয়, বন্ধ করা প্রয়োজন। তা নাহলে এক দশমিক পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রাখতে পারব না। আমরা হতাশ।
তবে গ্লাসগো সম্মেলন নিয়ে আশাবাদী আয়োজক দেশ ব্রিটেন। বন উজাড় বন্ধ এবং মিথেন নিয়ে প্রত্যেকটি দেশ প্রতিশ্রুতি পালন করলে দীর্ঘমেয়াদে কার্বন নির্গমন রোধ ও তাপমাত্রায় লাগাম টেনে ধরা যাবে বলে মনে করেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। তবে কপ টোয়েন্টি সিক্স-এর বাস্তব প্রভাব আগামী কয়েক বছরেই হয়তো দেখা যাবে না বলে জানান তিনি।
