হোম ফিচার বাঘারপাড়ায় মনোনয়ন বিবেচনার দাবি, শার্শায় বহিস্কৃত নেতাকে নৌকা দেয়ায় ক্ষুব্ধ তৃণমূল

যশোর অফিস :

যশোরের বাঘারপাড়ায় ২নং বন্দবিলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে নব্য আওয়ামী লীগেরদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। সোমবার যশোর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন বন্দবিলা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী মাসুম রেজা।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, তার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা বঙ্গবন্ধুর স্নেহ্যধন্য আলতাফ হোসেন ১৯৯৬ সাল থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত বাঘারপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ছিলেন। তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগেরও সভাপতি ছিলেন। তার পরিবার নির্যাতিত, নিষ্পেষিত। আওয়ামী লীগ করার কারণে জেল-জুলুম হুলিয়া মাথায় নিয়ে রাজনীতি করেছেন। ২০১৬ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাওলেও দল তাকে মনোনয়ন দেয়নি। তিনি মনোনয়ন পুনরায় বিবেচনার জন্য অনুরোধ জানান দলীয় প্রধানের কাছে।

মাসুম রেজা বলেন, বর্তমানে যাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে তিনি একজন নব্য আওয়ামী লীগার। ২০১৪ সাল থেকে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। এলাকার কোন মানুষ তাকে আওয়ামী লীগ হিসেবে চেনে না। বরং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নির্যাতনকারী হিসেবেই চেনে ও জানে।

এদিকে জেলার শার্শা উপজেলায় নৌকার বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে বহিস্কার হওয়া নিজামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতিতে এবার নৌকার মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়েছেন তৃণমূলের নেতা-কর্মী। তাদের অভিযোগ স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রভাব খাটিয়ে বহিস্কৃত নেতা আব্দুল ওহাবকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাইয়ে দিয়েছেন।

সোমবার (২৫ অক্টোবর) প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ তুলেছেন নিজামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী। একই সাথে তারা আব্দুল ওহাবের মনোনয়নপত্র বাতিল করে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কাঙ্খিত ব্যক্তিকে নৌকা বরাদ্দ দেয়ার দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন গত নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য সেলিম রেজা বিপুল।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আশরাফ আলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব সরদার, সাবেক সহসভাপতি ও বর্তমান সদস্য আব্দুল হাই দফাদার, আইন বিষয়ক সম্পাদক বাবুল হোসেন, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান, ইউনিয়ন কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক নূর মোহাম্মদ, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সুমন হোসেন প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘গত ২০১৬ সালে ইউপি নির্বাচনে সেলিম রেজা বিপুল নৌকা প্রতীক বরাদ্দ পান। কিন্তু তার বিরোধীতা করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য (যশোর-১) শেখ আফিল উদ্দিন। জামায়াত-বিএনপির সাথে আঁতাত করে বিদ্রোহী প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ জয়ী হন। ওই নির্বাচনে সরাসরি নৌকার বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে নৌকার পরাজয়ে ভূমিকা রাখেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল ওহাব। এজন্য যশোর জেলা আওয়ামী লীগ থেকে ওই সময় আব্দুল ওহাবকে বহিস্কার করা হয়। ২০১৬ সালের মে মাসে জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন দপ্তর সম্পাদক এসএম মাহমুদ হাসান বিপু তাকে বহিস্কারের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পত্রিকায় বিবৃতি দেন।’

সংবাদ সম্মেলন থেকে আরো বলা হয়, ‘কিন্তু সেই আব্দুল ওহাবকে এবারের নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্পষ্ট বার্তা থাকার পরেও একজন বহিস্কৃত নেতাকে দলীয় মনোনয়ন দেয়ায় নিজামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হতাশ হয়েছেন, ক্ষুব্ধ হয়েছেন।’

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন