জাতীয় ডেস্ক :
রংপুরের পীরগঞ্জের সহিংসতার ঘটনায় ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে র্যাবের করা মামলায় কারমাইকেল কলেজ ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত নেতা সৈকত মণ্ডল এবং পুলিশের মামলায় মুয়াজ্জিন রবিউল ইসলামের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড শেষে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রোববার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দেলোয়ার হোসেনের আদালত এ আদেশ দেন।
শনিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে কারওয়ান বাজার মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র্যাব জানায়, রংপুরের পীরগঞ্জে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার মূলহোতা সৈকত মণ্ডল ও তার সহযোগী রবিউল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
র্যাব আরও জানায়, ফেসবুকে ফলোয়ার সংখ্যা কাজে লাগিয়ে সহিংসতা ছড়ায় সৈকত মণ্ডল। মূলত নিজের জনপ্রিয়তা বাড়ানো আর এলাকায় আধিপত্য বিস্তারই ছিল তার উদ্দেশ্য। নানা সময়ে সৈকত নিজের রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করলেও তদন্তে তার সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততা পায়নি বলে দাবি করে সংস্থাটি।
কুমিল্লার ঘটনাকে কাজে লাগিয়ে একটি মহল যখন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের পাঁয়তারায় চালিয়ে যাচ্ছে বেশ কয়েকটি জেলায়। ঠিক তখনই ১৭ অক্টোবর পরিতোষ নামে একজন ইসলাম ধর্মকে অবমাননা করেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন প্রচার চালায় উজ্জ্বল। আর সেই পোষ্টকে বিভিন্নভাবে ছড়িয়ে দেয় সৈকত। আর তাতেই রংপুরের পীরগঞ্জের বড় করিমপুর গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে তাণ্ডব চালায় দুর্বৃত্তরা।
এই ঘটনার মূল হোতা সৈকত মণ্ডল ও তার সহযোগী রবিউল ইসলাম এখন র্যাব হেফাজতে। র্যাব জানায়, নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বহুদিন ধরেই নানা ধর্মীয় উস্কানিমূলক পোস্ট দিয়ে আসছিল সৈকত।
সেদিন ধর্মীয় অবমাননার বিষয়টি তিনি তার পেজের মাধ্যমেই ছড়িয়ে দেয় তার কয়েক হাজার ফলোয়ারের মাধ্যমে। পরে পীরগঞ্জে লোক জড়ো করেন।
এছাড়া আরও নানা উষ্কানিমূলক বক্তব্য আর মিথ্যাচার করে এলাকাবাসীকে উত্তেজিত করে তোলেন সৈকত। সহযোগী রবিউলকে ব্যবহার করা হয় মাইকিং করে লোক জড়ো করতে।
র্যাবের কর্মকর্তা জানান, গ্রেপ্তারকৃত পরিতোষ এবং উজ্জ্বল তাদের নিজস্ব প্রাথমিক দ্বন্দ্বের মাধ্যমে কিন্তু ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরিতোষকে উজ্জ্বল একটা অবমাননাকর তথ্য দেয় বা ছবি দেয়, পোস্ট করে। পরিতোষ উজ্জ্বলকে আবার একটি ধর্মীয় অবমাননাকর পোস্ট দেয়। সেটা উজ্জ্বল ছড়িয়ে দেয়। সৈকত মণ্ডল ইতোপূর্বেও বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়েছে। এবং সে একটি দুর্বল সময়ের জন্য সব সময় অপেক্ষা করেছে। এবং কুমিল্লার ঘটনা পরবর্তী সময়েও সে বিভিন্ন ধরনের পোস্ট দিয়েছে।
সৈকত বিভিন্ন সময়ে নানা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা বললেও প্রমাণ না পাওয়ার দাবি করেছে র্যাব। মূলত সাম্প্রদায়িকতা উস্কে দিয়ে নিজের জনপ্রিয়তা বাড়ানো আর এলাকায় আধিপত্য বিস্তারই ছিল তার উদ্দেশ্য।
রংপুরের ঘটনায় তিনটি মামলায় এখন পর্যন্ত ৩০ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে র্যাব।
