জাতীয় ডেস্ক :
সরকারের শুল্ক প্রত্যাহারের পর বাজারে পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করলেও ঊর্ধ্বমুখী তেল, ডাল ও চিনির দাম। ক্রেতাদের নাভিশ্বাস। তারা নিয়মিত নজরদারির দাবি করছেন।
ঊর্ধ্বগতির বাজারের লাগাম টানতে বৃহস্পতিবার (১৪ অক্টোবর) পেঁয়াজের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। কমতে শুরু করেছে পেঁয়াজের ঝাঁজও। শুক্রবার (১৫ অক্টোবর) বাজারে দেশি পেঁয়াজ মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকায়। যা গত তিন দিন আগেও বিক্রি হয়েছে ৭৫ থেকে ৮০ টাকায়। তাছাড়া ভারতীয় পেঁয়াজ মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকায়। যা গত তিন দিন আগেও বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকায়।
বাজারে আসা একজন ক্রেতা জানান, পেঁয়াজের দাম একটু কমেছে। তবে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির ফলে জণসাধারণের বেশ অসুবিধা হচ্ছে। পেঁয়াজের দাম কমার বিষয়ে বিক্রেতারা জানান, পেঁয়াজের বাজারে গত একসপ্তাহ আগে দেশি পেঁয়াজ প্রতিকেজি ছিল ৬৫ টাকা এবং ভারতীয় পেঁয়াজ ছিল ৬০ টাকা। সরকারের শুল্ক প্রত্যাহারের পর প্রতিকেজি ৫ থেকে ৭ টাকা কমেছে।
তবে শুল্ক কমানো হলেও এখনও তার কোনো প্রভাব নেই চিনির দামে। প্রতি কেজি খোলা চিনি ৮০ টাকায় এবং প্যাকেটজাত চিনি ৮৫ থেকে ৮৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও পাল্লা দিয়ে বাড়ছেই। লাগামছাড়া বাজার দরের সঙ্গে তাল মেলাতে নাভিশ্বাস ক্রেতাদের।
ক্রেতারা বলছেন, বাজারে সবজি থেকে শুরু করে সব কিছুর দামই বাড়তি। এমনিতেই করোনার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য সব ক্ষতিগ্রস্ত। এখন পরিবার চালানো বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে যাচ্ছে। বাজার মনিটরিংয়ের কমিটির কাছে বিনীত অনুরোধ থাকবে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যগুলো যেন মধ্যবিত্তদের নাগালের ভিতরে রাখা হয় বলে মন্তব্য করেন একজন ক্রেতা।
এবিষয়ে বিক্রেতারা বলেছেন, শুল্ক প্রত্যাহারের পর যে দাম কমবে, এমন কোনো আভাস আমাদের কাছে আসে নি। এতদিন দাম বাড়ার পিছনে ট্যাক্স বা আন্তর্জাতিক বাজারের অজুহাত দেওয়া হয়েছে, তবে বর্তমানে শুল্ক কমানোর পর তা দামের উপর কেমন প্রভাব ফেলে তা দেখার বিষয়।
দ্রব্যমূল্যের দাম নিয়ন্ত্রণে বাজার মনিটরিংয়ের দাবি করেছেন সাধারণ মানুষ।
উল্লেখ্য, প্রতিদিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে দুটি দল ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ বাজার মনিটরিং করছে। সেই সাথে সারাদেশে জেলা-উপজেলায় জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে ও ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সহায়তায় বাজার মনিটরিং অব্যাহত রয়েছে।
