হোম আন্তর্জাতিক করোনা: ‘চীনের হুবেই গুহা ও বন্যপ্রাণীর খামারগুলোতে গভীর তদন্ত প্রয়োজন’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

চীনের হুবেই প্রদেশের এনশি এলাকার পর্বতগুলোতে অসংখ্য গুহা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে জাকজমকপূর্ণ টেঙলং বা ‘ফ্লাইং ড্রাগন’ গুহা। গুহাটি ৩৭ মাইল এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এবং এতে অসংখ্য বাদুড় রয়েছে। এ ছাড়া এর আশেপাশে ছোট ছোট খামার রয়েছে। মহামারি শুরুর আগে এখানে হাজার হাজার বন্য স্তন্যপায়ী প্রাণী যেমন সিভেটস, ফেরেট ব্যাজার এবং র্যা কুন কুকুর পালন করা হতো। বিজ্ঞানীরা বলছেন, বাদুড় থেকে মানুষে মহামারি ছড়ানোর মধ্যবর্তী মাধ্যম হতে পারে এই প্রাণীগুলো।

করোনাভাইরাসের উৎস খুঁজতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এনশির মতো বন্যপ্রাণীর খামার এলাকাগুলোতে প্রবেশে চীনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে। সংস্থাটি মনে করছে, করোনার উৎস খোঁজার এটি প্রধান ধাপ। কিন্তু বেইজিং এই আবেদন নাকচ করেছে। যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মুখপাত্র তারিক জাসারেভিক বলেছিলেন, হুবেই অঞ্চলে যাওয়ার জন্য কোনো নির্দিষ্ট অনুরোধ ছিল না।

ওয়াশিংটন পোস্ট উহানের পশ্চিমে ছয় ঘণ্টার পথ পার হয়ে সেপ্টেম্বরে এনশিতে বিরল একটি ভ্রমণ করেছিল, যেখানে করোনাভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয়। এনশি গুহাগুলোতে এক রিপোর্টার মানুষের যাতায়াত পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। গ্রামবাসীরা গুহার ভেতরে পানির পাম্প প্রতিস্থাপন করেছিলেন। গুহার প্রবেশপথ থেকে এক মাইল দূরেই ছিল বিলুপ্ত বন্যপ্রাণীর খামারগুলো।

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বিজ্ঞানীরা ব্রিফ করেন, বাদুড় থেকে অন্যপ্রাণীতে করোনা ভাইরাস ছড়ানোর সম্ভাব্য মাধ্যম এটি। এরপর অন্যপ্রাণী থেকে তা ছড়িয়েছে উহানের বাজারে।

খামারে পালিত পশু ও স্থানীয় বাসিন্দাদের করোনা পরীক্ষার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসের এক মুখপাত্র বলেন, ওই মুহূর্তে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু যাচাই-বাছাই করা হয়নি। চীন ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে বন্যপ্রাণী ব্যবসা নিষিদ্ধ করেছে। এনশি বন্যপ্রাণী কর্তৃপক্ষ ফ্যাক্সে পাঠানো প্রশ্নের কোনো সাড়া দেয়নি। দুই কর্মকর্তা সরাসরি সাক্ষাৎকার অস্বীকার করেছেন।

চীনা একাডেমি অব সায়েন্সেসের অধীনে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান জিশুয়াংবানা ট্রপিক্যাল বোটানিক্যাল গার্ডেন অনুসারে, পশ্চিম হুবেইতে কমপক্ষে সাত ধরনের বাদুড় রয়েছে। এর মধ্যে রাইনোলোফাস অ্যাফিনিস পাওয়া গেছে চীনের আরও দক্ষিণে যা SARS-CoV-2 এর মতো ৯৬ শতাংশ ভাইরাস বহন করে।

গুহার কাছে ভূমিগুলোতে এনশি কর্মকর্তারা বছরের পর বছর ধরে দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য বন্যপ্রাণী চাষ গড়ে তুলেছে। সরকারি ঘোষণায় দেখা গেছে, মহামারিতে হুবেই বন্যপ্রাণী খামারের ১৭ শতাংশ বন্ধ হয়ে গেছে। কর্তৃপক্ষ অনুমান করেছে, ২৯০টি খামার বন্ধ হয়ে গেছে। এই খামারগুলোতে ৪ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৭ লাখ ৮০ হাজার বন্যপ্রাণী ছিল।

চীন সরকার ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, মহামারির সম্ভাব্য উৎপত্তি হয়েছে বন্যপ্রাণীর মাধ্যমে প্রাকৃতিক সংক্রমণের ফলে। তবে এই বন্যপ্রাণী থেকে উহানের বাজারে করোনা ছড়ানোর নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া কিংবা করোনার উৎস নিয়ে যেকোনো তত্ত্বের ক্ষেত্রে খুব কমই অগ্রগতি হয়েছে, কারণ চীন সরকার বিজ্ঞানীদের প্রবেশাধিকার বা অনুমতি দেয়নি।

অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞানী মাইকেল ওয়ারোবি বলেন, সেই বাদুড়গুলো থেকে কী কী ভাইরাস ছড়ায় সে সম্পর্কে আমাদের আরও জানতে হবে। চীনের বন্যপ্রাণীর খামার ও বাদুড়ের নৈকট্য যা করোনাভাইরাস বহন করতে পারে, বিষয়টি নিয়ে আমরা চিন্তিত।

সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন