রিপন হোসেন সাজু, মণিরামপুর (যশোর) :
দফায় দফায় ভারি বর্ষায় যশোরের মনিরামপুরে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পানি ঢুকে পড়েছে বাড়ির আঙিনায় এমনকি বসতঘরে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন উপজেলার পূর্ব এলাকার কয়েকটি ইউনিয়নের ২০-২৫টি গ্রামের হাজারো পরিবার। পানি উঠেছে চলাচলের রাস্তাসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। পানির কারণে বাড়ির বাইরে যেতে পারছেন না মানুষ। কর্মহীন অনাহার অর্ধাহারে দিন কাটছে বহু মানুষের। এমনকি জলাবদ্ধতায় মৃতের দাফনের জন্য একটু শুকনো মাটি পর্যন্ত পাচ্ছেন না স্বজনরা।
গেল কয়েক বছরধরে ভবদহের জলাবদ্ধতার কারণে মনিরামপুরের হরিদাসকাটি, কুলটিয়া, মনোহরপুর ও দুর্বাডাঙা ইউনিয়নের কয়েক হাজার বাড়ি ঘর তলিয়ে যায়। এবারও তার ব্যত্যয় ঘটেনি। চলতি মৌসুমে বর্ষার শুরুতে কুলটিয়া ইউনিয়নের হাটগাছা, সুজাতপুর, কাজেকুলটিয়া গ্রামে পানি উঠতে শুরু করে। একে একে ওই ইউনিয়নের আলিপুর, বাগডাঙা, দহকুলা, পাড়িয়ালিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
সম্প্রতি বৃষ্টিতে পানি উঠেছে হরিদাসকাটি ইউনিয়নের নেবুগাতী, কুচলিয়া, পাঁচকাটিয়া ও ভুলবাড়িয়ার শতাধিক বসতঘরে। পানি উঠেছে মনোহরপুর ইউনিয়নের ভবনীপুর, বয়ারখোলা, রোজিপুর ও কপালিয়া গ্রামের দুটি ওয়ার্ডের প্রায় ২৩০টি বসতবাড়িতে। জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে দুর্বাডাঙা ইউনিয়নের কাজিয়াড়া, দত্তকোনা, বিপ্রোকোনা ও ঝিকরডাঙার অর্ধশত বাড়িতে। পানি রয়েছে ২০-২৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আঙিনায়।
বসতবাড়ির আঙিনায় পানি ওঠায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন এসব এলাকার কয়েক হাজার মানুষ। অনেকে বাড়ির উঠানে সাঁকো গেড়েছেন। বেশ কিছুদিন এমন পরিস্থিতি হলেও দুর্দশাগ্রস্ত মানুষগুলোর সহায়তায় এগিয়ে আসেননি কেউ।
বিপ্রকোনা গ্রামের আজহারুল ইসলাম বলেন, ভ্যান চালায়ে খাই। উঠোনে হাঁটুপানি হওয়ায় বাড়ি থেকে বের হতি পারছিনে। তিনবেলা ঠিকমত খাবার জুটছে না।
মনোহরপুর ইউপির চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমান বলেন, ইউনিয়নের চারটি গ্রামের অন্তত ২৩০-২৪০ টা বসত বাড়িতে পানি উঠেছে। অনেকর রান্নাঘরে পানি ওঠায় বন্ধ হয়েছে রান্না খাওয়া।
চেয়ারম্যান বলেন, আজ (মঙ্গলবার) সকালে বয়ারখোলা গ্রামের এয়াকুব আলী মারা গেছেন। কবরস্থানে পানি ওঠায় তার দাফন করতে পারছিলাম না। পরে চারপাশে বালুর বস্তা দিয়ে পানি আটকিয়ে তাঁর দাফনের ব্যবস্থা করেছি।
হরিদাসকাটি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য প্রনব কুমার বলেন, গ্রামের ভিতর দিয়ে বয়ে যাওয়া মুক্তেশ্বরী নদী ভবদহের শ্রী নদীতে মিশেছে। ভবদহের স্লুইসগেট দিয়ে পানি না সরায় মুক্তেশ্বরী নদীর পানি আর আমাদের গ্রামের পানি সমান হয়ে গেছে। পানি কোন দিকে সরছে না। বসতবাড়িতে এক-দেড়ফুট পানি জমে আছে।
