জাতীয় ডেস্ক :
এর আগে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ৫ বার অংশ নিয়েও জয়ী হতে পারেননি। এবার ইউনিয়নে দলীয় মনোনয়ন চান হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মিসবাহ উদ্দিন ভূঁইয়া। যার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে মামলাও রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, আগামী ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হচ্ছে হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। এ নিয়ে প্রার্থীদের মধ্যে চলছে প্রচার-প্রচারণা। দলীয় মনোনয়ন পেতে অনেক প্রার্থী ইতোমধ্যে শুরু করেছেন দৌড়ঝাঁপ।
এ নির্বাচনে উপজেলার ৪নং কাকাইলছেও ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দাবি করছেন মিসবাহ উদ্দিন ভূঁইয়া। ইতোমধ্যে তিনি বিভিন্ন তৎপরতাও শুরু করেছেন। জেলা থেকে শুরু করে কেন্দ্র পর্যন্ত চালাচ্ছেন লবিং।
জানা গেছে, কাকাইলছেও ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান নূরুল হক ভূঁইয়া। বার্ধক্যজনিত কারণে এবার নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। এ সুযোগে দলের মনোনয়ন চেয়ে ওই ইউনিয়নে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন নূরুল হক ভূঁইয়ার ছোট ভাই মিসবাহ উদ্দিন ভূঁইয়া।
এতে ক্ষমতাসীন দলের অন্যান্য প্রার্থী ও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ। আলোচনা চলছে, উপজেলা নির্বাচনে ৫ বার পরাজিত প্রার্থী মিসবাহ উদ্দিন ভূঁইয়াকে আবারো নৌকার মনোনয়ন দিলে কাকাইলছেও ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের ভরাডুবি হতে পারে। তাই ওই ইউনিয়নে আদর্শবান ও ত্যাগী কোনো নেতাকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা।
এ ব্যাপারে কাকাইলছেও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সভাপতি চৌধুরী মোহাম্মদ ফরিয়াদ জানান, স্বাধীনতাবিরোধী এ নেতা লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে ত্যাগী আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের হয়রানি করে আসছেন। তিনি বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের আওয়ামী লীগের কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থান করে দিয়েছেন। প্রভাবশালী এ যুদ্ধাপরাধী অর্থ ও লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের জিম্মি করে রেখেছেন। তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে মিথ্যা মামলা ও সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে হয়রানি করা হয়। ইতোমধ্যে তাকে আওয়ামী লীগের পদ থেকে বাতিল করতে প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে আবেদন করেছেন মুক্তিযোদ্ধারা।
অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী আজমিরীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য অ্যাডভোকেট মুছা মিয়া বলেন, উপজেলা বর্ধিত সভায় অন্যান্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সভাস্থল থেকে বের করে দিয়ে নিজের পকেটের লোকদের স্বাক্ষর নিয়ে তালিকা করা হয়েছে। আমরা এ তালিকা মানি না। নিরপেক্ষভাবে তৃণমূলের মতামত নিয়ে যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া উচিত।
এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী মিসবাহ উদ্দিন ভুঁইয়া জানান, ইউনিয়নের বর্ধিত সভায় তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মতামতের ভিত্তিতেই তালিকা করা হয়েছে। এখানে আমার এককভাবে প্রভাব খাটানোর কোনো সুযোগ নেই। অন্য প্রার্থীদের সঙ্গে আমিও ঘরের বাইরে ছিলাম।
তিনি আরও বলেন, আমার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। যে ঘটনায় আমাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে এ ঘটনার সাক্ষী আমি ও আমার ভাই। হাইকোর্ট থেকে আমাদের সাক্ষী দেওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়েছে। একই ঘটনায় যেখানে আমরা সাক্ষী সেখানে আবার আসামি করা হয় কীভাবে? আমাদের পারিবারিক ও সামাজিকভাবে হেয় করার জন্য কয়েকজন এসব মিথ্যে অভিযোগ সাজিয়েছেন।
