মান্না দে, ফকিরহাট (বাগেরহাট) :
হিন্দু ধর্মাবলম্বীর সর্ব বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা আসন্ন। এখনো এক সপ্তাহ বাকী থাকলেও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দরজায় কড়া নাড়ছে দেবী-দুর্গার আগমনী বার্তা। বিশেষ করে দুর্গা প্রতিমার রং তুলি দিয়ে নানা রঙ্গে প্রতিমা সাজাতে ব্যস্ত প্রতিমা শিল্পীরা।
উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ জানিয়েছেন, বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ৬৭টি মন্দিরে শারদীয় দুর্গা উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। এরমধ্যে বেতাগা ইউনিয়নে ৩টি, লখপুরে ৯টি, পিলজংগে ৬টি, ফকিরহাট ইউনিয়নে ১০টি, বাহিরদিয়া-মানসায় ৭টি, নলধা-মৌভোগে ১০টি, মূলঘরে ১৮টি এবংশুভদিয়া ইউনিয়নে ৪টি পূজা মন্দিরে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।
বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় জাকজমকপূর্ণ ভাবে শারদীয় দুর্গাপূজার আয়োজন চলছে। এখন শারদীয় দুর্গোৎসবে মেতে ওঠার অপেক্ষায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। এ উৎসবকে ঘিরে উপজেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের মাঝে দেখা দিয়েছে পূজার আমেজ। নতুন পোশাক কেনা-কাটা করছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। হাট-বাজার সহবিভিন্ন মাকের্ট ও শপিং মহলে ভীড় বেড়েছে। মন্দিরের সাজ-সজ্জ্বা শুরু হয়েছে।
পূজা সুষ্ঠ,সুন্দর ও শান্তিপূর্নভাবে পালনের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রস্তুতিমূলক সভা।
বিভিন্ন মন্দির ঘুরে দেখা গেছে, দিন রাত কাজ করে প্রতিমা শিল্পীদের হাতের নিপুণ ছোঁয়ায় তৈরি হচ্ছে মা দুর্গা সহ বিভিন্ন প্রতিমা। যেন দম ফেলার সময় নেই কারিগরদের। তবে এবার রং, তুলির ও সাজসজ্জার দাম বেশি বলে জানিয়েছেন কয়েকজন কারিগর।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এবার দুর্গাদেবী আসবে ঘোড়ায় চড়ে, আর যাবেন দোলায় চড়ে। দুর্গোউৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা আগামী ১১ অক্টোবর ষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে শারদীয় দুর্গা উৎসব। ১২ অক্টোবর দেবীর সপ্তমী, ১৩ অক্টোবর দেবীর মহাঅষ্টমী, (কুমারী পূজা, সন্ধি পূজা) ১৪ অক্টোবর দেবীর নবমী এবং ১৫ অক্টোবর দশমী পূজা, (সমাপন ও দর্পন বিসর্জন)। এবং সন্ধ্যায় আরত্রিকের পর প্রতিমা বির্সজনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ব বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা।
ফকিরহাটে ৬৭ মন্দিরে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে পূজা উদযাপন হবে বলে জানান উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মনোতোষ রায় কেষ্ট।
এদিকে করোনা পরিস্থিতি হলেও উপজেলায় স্বাস্থ্য বিধি মেনে শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে পূজা উদযাপন হবে বলে আশা করছেন উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রজিৎ কুমার মজুমদার।
