হোম আন্তর্জাতিক বন্দুকের গুলি ছুড়ে বিজয় উদযাপনে নিহত ১৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

বন্দুকের গুলি ছুড়ে ও আতশবাজিতে বিজয় উদযাপন করতে গিয়ে আফগানিস্তানে ১৭ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার (৪ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় বার্তা সংস্থার বরাতে ব্রিটিশভিত্তিক রয়টার্স এমন খবর দিয়েছে।

তালেবান সূত্র বলছে, তাদের যোদ্ধারা পাঞ্জশির উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। ইসলামি গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে সর্বশেষ প্রতিরোধ গড়েছিল এই উপত্যকাটির যোদ্ধারা।

তবে পার্বত্যাঞ্চলটির পতন ঘটেনি বলে তালেবানবিরোধী যোদ্ধারা দাবি করেছেন। স্যামশাদ বার্তা সংস্থা বলছে, শুক্রবার আকাশে এলোপাতাড়ি গুলিতে ১৭ জন নিহত ও ৪১ জন আহত হয়েছেন। সংবাদসংস্থা টোলোও একই খবর দিয়েছে।

প্রাদেশিক রাজধানী জালালাবাদের একটি হাসপাতালের মুখপাত্র গুলজাদা শাঙ্গার বলেন, কাবুলের পূর্বে নানগারহার প্রদেশে বন্দুক থেকে গুলি ছুড়ে বিদায় উদযাপন করতে গিয়ে আহত হয়েছেন অন্তত ১৪ জন।

বন্দুকের গুলি ছুড়ে এভাবে বিজয় উদযাপনের বিরোধিতা করেছেন তালেবান মুখপাত্র জবিহুল্লাহ মুজাহিদ। তিনি বলেন, এভাবে আকাশের দিকে গুলি না করে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায়া করুন। বুলেটে বেসামরিক লোকজন হতাহত হতে পারেন। অপ্রয়োজনীয় গোলাগুলি করবেন না।

তালেবান পাঞ্জশির নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করলেও গণমাধ্যম বলছে, এখনো প্রদেশটির প্রতিরোধ বাহিনী তালেবানের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে এখনো সরকার গঠন করতে পারেনি তালেবান।

যে কোনো মুহূর্তে নতুন সরকার গঠনের ঘোষণা আসতে পারে বলে জানিয়েছে গণমাধ্যম। এরমধ্যেই আফগানিস্তানের মানবেতর পরিস্থিতি চরমে পৌঁছেছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছে ৬ লাখ আফগান। আফগান নাগরিকদের মানবিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিলেও তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি না দেওয়ার ব্যাপারে এখনো অটল যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমাদেশগুলো। আফগানিস্তানের মানবিক পরস্থিতির জন্য আবারো যুক্তরাষ্ট্রকেই দুষেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

গেল মাসে আফগানিস্তানের দখল নেওয়া তালেবানের বিরুদ্ধে রকেট হামলা চালিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে দেখা যায় তালেবানমুক্ত অঞ্চল পাঞ্জশিরের যোদ্ধাদের। মার্কিন ও ন্যাটো বাহিনী আফগানিস্তান ত্যাগের সঙ্গে সঙ্গে খুব অল্প সময়ে দেশটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিলেও গুরুত্বপূর্ণ পাহাড়ি অঞ্চল পাঞ্জশির তালেবানের নাগালের বাইরেই রয়ে যায়।

এবার তালেবান দাবি করছে, পাঞ্জশিরও দখলে নিয়েছে তারা। যদিও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বলছে, উপত্যকাটিতে এখনো তুমুল সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। অঞ্চলটির দখল নিতে মরিয়া তালেবান যোদ্ধারা। ১৯৯৬ সালেও হার না মানা তালেবান প্রতিরোধ যোদ্ধারাও কৌশলগত অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

পাঞ্জশির দখলের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কাবুলে শুক্রবার রাতেই তালেবান সদস্যদের ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে আনন্দ উল্লাস করতে দেখা যায়।

তালেবানের হাতে আফগানিস্তানের শাসনভার যাওয়ার দুই সপ্তাহ হয়ে গেলেও এখনো পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে মানবিক বিপর্যয় চরমে পৌঁছেছে।

অর্থনৈতিক মন্দা জাপ্টে ধরা আফগানিস্তানে কাজকর্ম না থাকায় সাধারণ আফগানরা ভিড় করছেন প্রতিবেশী দেশগুলোর সীমান্তে। অনেকে না খেয়ে দিন পার করছেন। জাতিসংঘ বলছে, এ বছর অন্তত ৬ লাখ আফগান নাগরিক বাস্তুচ্যুত হয়ে শরণার্থী জীবন যাপনে বাধ্য হয়েছেন। এদের মধ্যে ৮০ শতাংশই নারী ও শিশু। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার জন্য আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটির শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর।

মানবিক বিপর্যয়ে পড়া সাধারণ আফগানদের সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে মার্কিন সরকার। তবে তালেবান সরকারকে কোনোভাবেই স্বীকৃতি দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেনসহ পশ্চিমাদেশগুলো। ইইউ বলছে, তালেবানের স্বীকৃতি নির্ভর করছে তাদের কর্মকাণ্ডের ওপর।

তবে আফগানিস্তানের মানবিক বিপর্যয়ের জন্য আবারো যুক্তরাষ্ট্রকেই দায়ী করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের কারণেই এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে আফগানিস্তান সরকারের সাবেক কর্মকর্তাদের ইমেইলগুলো আপাতত বন্ধ করে দিয়েছে গুগল। তালেবানের কাছে যাতে তাদের তথ্য না যায় ও সাবেক কর্মকর্তাদের নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ঐ অ্যাকাউন্টগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানায় টেক প্রতিষ্ঠানটি।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন