খুলনা অফিস :
দুই যুগেরও বেশি সময়ের পর ফের শুরু হলো মহানগর জাতীয় পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও খুলনা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক সভাপতি শেখ আবুল কাশেম ও তার ড্রাইভার মিখাইল হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম। উচ্চ আদালতের দুই বছর আগের ভ্যাকেট আদেশ সোমবার খুলনায় পৌঁছায় ।
এদিনই ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোঃ সাইফুজ্জামান হিরো, আগামী ২৬ জানুয়ারি সাক্ষ্য গ্রহণের মধ্য দিয়ে মামলার কার্যক্রম আবারও শুরু করার আদেশ প্রদান করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন খুলনার জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী দ্রুত অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি অ্যাড. আরিফ মাহমুদ লিটন।
চাঞ্চল্যকর মামলাটির বাদী, প্রধান সাক্ষী, তদন্ত কর্মকর্তা ও দুই আসামির ইতোমধ্যে মৃত্যু হয়েছে। উচ্চ আদালতে কয়েক দফা স্থগিত আদেশের পর মামলাটির বিচার কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়ায় বিষয়টিকে ঘিরে আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে খুলনাবাসীর।
সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৫ সালের ২৫ এপ্রিল সকালে খুলনা সদর থানার অদূরে স্যার ইকবাল রোড়ে বেসিক ব্যাংকের সামনে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গুলিতে শেখ আবুল কাশেম ও তার ড্রাইভার মিখাইল নিহত হন।
খুলনা থানায় মামলা দায়ের হলেও পরে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পড়ে সিআইডি’র ওপর। তারা দীর্ঘ তদন্ত করে ১৯৯৬ সালের ৫ মে দশজনের নামে চার্জশিট দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা। চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলো-প্রভাবশালী ব্যবসায়ী সৈয়দ মনিরুল ইসলাম (মৃত), হোটেল ব্যবসায়ী তরিকুল হুদা টপি, তৎকালীন জাপা নেতা ও পরিবহন ব্যবসায়ী আব্দুল গফ্ফার বিশ্বাস,জাপা নেতা ইকতিয়ার উদ্দিন বাবলু (নিহত), খুলনা চেম্বারের বর্তমান সভাপতি কাজি আমিনুল হক, ওসিকুর রহমান, মোশফেকুর রহমান, মফিজুর রহমান, মিল্টন ও তারেক।
আইনজীবীদের দেয়া তথ্যমতে, ১৯৯৭ সালের ৮ জুন বিচার কাজ শুরু হলেও দুই যুগেও শেষ হয়নি। বিচার কাজ শুরুর প্রথম দিনই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রাণালয় সিআরপিসি ৪৯৪ ধারামতে প্রজ্ঞাপনে চার্জশিট থেকে কাজি আমিনুল হকের নাম বাদ দেয়া হয়। বাদী পক্ষ এই প্রজ্ঞাপনের বিরুদ্ধে না রাজী দিয়ে উচ্চ আদালতে আবেদন করলে প্রথম মামলার কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। পরে কাজি আমিনুলকে বাদ দিয়ে বিচার কাজ শুরুর উদ্যোগ নেয় বাদীপক্ষ। এই সময় শিল্পপতি সৈয়দ মনিরুল ইসলাম নিজের অংশ বাদ রেখে বিচার চালানোর আবেদন করলে উচ্চ আদালত মামলার বিচার কাজ স্থগিত করেন।
আরও জানা যায়, কয়েক দফা এইভাবে মামলার কার্যক্রম স্থগিত থাকার পর ২০০৮ সালের ২৪ এপ্রিল খুলনা বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পুনরায় বিচার কাজ শুরু হয়। ওই সময় মোট ৩২ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৮ জনের সাক্ষ্য হওয়ার পর ওই বছরের ২০ নভেম্বর মামলাটি নির্দিষ্ট সময় শেষ না হওয়ায় জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে ফেরত আসে। সৈয়দ মনিরুল ইসলামের পর আব্দুল গফ্ফার বিশ্বাসের পক্ষে পরে ২০০৮, ২০০৯, ২০১৪ সালে আবারও উচ্চ আদালতের নির্দেশে মামলার কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। সেই থেকে মামলাটির বিচার কাজ পুরোপুরি স্থগিত ছিল।
এ বিষয়ে নিহতের বড় ভাই সাবেক সংসদ সদস্য শেখ আবুল হোসেন বলেন, বিচারের ভার আল্লাহর উপর ছেড়ে দিয়েছি। মামলার বাদী ১৪ বছর আগে ইন্তেকাল করেছেন। প্রধান সাক্ষী আসাদুজ্জামান লিটু ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসপি খোন্দকার ইকবাল নিহত হয়েছেন। নিহত শেখ আবুল কাশেমের স্ত্রী আর সন্তানেরা হতাশা থেকে মামলার ব্যাপারে কোনো কথা বলতে রাজি নন বলে জানিয়েছেন তিনি।
জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী দ্রুত অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি অ্যড. আরিফ মাহমুদ লিটন বলেন, “আগামী ২৬ জানুয়ারি চাঞ্চল্যকর শেখ আবুল কাসেম হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত বাকী সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ শুরুর তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত। প্রায় দুই বছর আগে মামলাটির বাদীপক্ষের আবেদন শুনানীর পর উচ্চ আদালত ভ্যাকেট আদেশ দিয়ে মামলাটির পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্নের আদেশ দেন। এ আদেশ খুলনাতে পৌঁছানোর পর সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ চূড়ান্ত করা হয়েছে।”
s
