হোম আন্তর্জাতিক যুদ্ধ ও অস্থিরতায় বিশ্বজুড়ে বেড়েছে রেকর্ড পরিমাণ সামরিক ব্যয়

যুদ্ধ ও অস্থিরতায় বিশ্বজুড়ে বেড়েছে রেকর্ড পরিমাণ সামরিক ব্যয়

কর্তৃক Editor
০ মন্তব্য 58 ভিউজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ২০২৫ সালে সামরিক ব্যয় নতুন রেকর্ড গড়েছে। বছরে মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লাখ ৯০ হাজার কোটি ডলার, যা টানা একাদশ বছরের মতো বৃদ্ধি পেল। সোমবার স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (সিপ্রি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গবেষকদের মতে, বৈশ্বিক নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তে থাকা অনিশ্চয়তা এবং সামরিক শক্তি বৃদ্ধির প্রতিযোগিতাই এ ব্যয় বৃদ্ধির প্রধান কারণ। সামরিক ব্যয়ে শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া- এই তিন দেশের সম্মিলিত ব্যয়ই বৈশ্বিক মোট ব্যয়ের অর্ধেকের বেশি, প্রায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি ডলার।

২০২৫ সালে মোট সামরিক ব্যয় আগের বছরের তুলনায় ২ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। তবে বড় ব্যয়কারী দেশগুলোর মধ্যে ব্যতিক্রম যুক্তরাষ্ট্র, যারা এ বছর কিছুটা ব্যয় কমিয়েছে। সিপ্রির গবেষক লরেনৎসো স্কারাৎসাতো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই ঘাটতি মূলত ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলোর বাড়তি ব্যয়ে পূরণ হয়েছে।

বিশ্বের জিডিপির তুলনায় সামরিক ব্যয়ের অনুপাতও ২০০৯ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। স্কারাৎসাতোর ভাষায়, “বিশ্ব এখন নিজেকে আগের চেয়ে বেশি অনিরাপদ মনে করছে, আর সেই কারণে দেশগুলো অস্ত্র সংগ্রহে ঝুঁকছে।”

যুক্তরাষ্ট্র ২০২৫ সালে সামরিক খাতে ব্যয় করেছে ৯৫ হাজার ৪০০ কোটি ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৭ দশমিক ৫ শতাংশ কম। এর বড় কারণ, ইউক্রেনকে নতুন সামরিক সহায়তা অনুমোদন না হওয়া। তবে এই নিম্নগতি দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ২০২৬ সালের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ১ লাখ কোটি ডলারের বেশি প্রতিরক্ষা বাজেট অনুমোদন করেছে এবং ২০২৭ সালে তা আরও বাড়তে পারে।

ইউরোপে সামরিক ব্যয় সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে এ অঞ্চলের ব্যয় ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৮৬ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সহায়তা কমে আসার আশঙ্কাও ইউরোপীয় দেশগুলোকে নিজেদের প্রতিরক্ষা জোরদারে উৎসাহিত করছে।

জার্মানি ২০২৫ সালে ১১ হাজার ৪০০ কোটি ডলার ব্যয় করে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম সামরিক ব্যয়কারী দেশ হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২৪ শতাংশ বেশি। স্পেনের সামরিক ব্যয়ও ৫০ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ২০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।

রাশিয়া ও ইউক্রেন- দুই দেশেই যুদ্ধের কারণে সামরিক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। রাশিয়ার ব্যয় ৫ দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৯ হাজার কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা দেশটির জিডিপির ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। অন্যদিকে ইউক্রেন ব্যয় ২০ শতাংশ বাড়িয়ে ৮ হাজার ৪১০ কোটি ডলারে উন্নীত করেছে, যা তাদের জিডিপির প্রায় ৪০ শতাংশ।

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা থাকা সত্ত্বেও সামরিক ব্যয় তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। এ অঞ্চলে মোট ব্যয় বেড়েছে মাত্র ০ দশমিক ১ শতাংশ, দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ৮০০ কোটি ডলারে। ইসরায়েল ও ইরান- এই দুই দেশ ব্যয় কমিয়েছে, যার পেছনে সংঘাতের তীব্রতা কমে আসা ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির মতো কারণ কাজ করেছে।

এশিয়া ও ওশেনিয়া অঞ্চলে সামরিক ব্যয় ৮ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৬৮ হাজার ১০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০০৯ সালের পর সর্বোচ্চ বার্ষিক বৃদ্ধি। এ অঞ্চলে চীন প্রধান চালিকা শক্তি হিসেবে ভূমিকা রাখছে। ২০২৫ সালে দেশটির সামরিক ব্যয় দাঁড়িয়েছে আনুমানিক ৩৩ হাজার ৬০০ কোটি ডলার।

চীনের সামরিক শক্তি বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী দেশগুলোও প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়াচ্ছে। জাপান ২০২৫ সালে ৯ দশমিক ৭ শতাংশ ব্যয় বাড়িয়ে ৬ হাজার ২২০ কোটি ডলারে নিয়ে গেছে, যা ১৯৫৮ সালের পর সর্বোচ্চ। তাইওয়ানও ১৪ শতাংশ ব্যয় বাড়িয়ে ১ হাজার ৮২০ কোটি ডলারে উন্নীত করেছে।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন