ইবি প্রতিনিধি:
নরসিংদীর মাধবদীতে ১৫ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় বিচার চেয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বাদ জুমা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলে শাখা ছাত্রশিবির, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরাসহ শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটকে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। এসময় শিক্ষার্থীরা ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
মিছিল পরবর্তী সংক্ষিপ্ত সমাবেশে আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রাহাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘স্বাধীন বাংলাদেশে আমার মা-বোন আজ নিরাপদ নয়। ১৫ দিন আগের ধর্ষণের জন্য আমাদের আজ রাস্তায় নামতে হয়। এটা এই জাতির জন্য লজ্জাজনক। আমরা অনতিবিলম্বে এই কুলাঙ্গার ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
তিনি আরো বলেন, এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হলেও মূল ধর্ষক ধরা ছোয়ার বাইরে। আমরা দেখেছি ধর্ষকরা কোনো একটা রাজনৈতিক দলের আশ্রয়ে রয়েছে। কোন রাজনৈতিক দলের প্রশ্রয়ে রয়েছে আমরা জানতে চাই, সেই দল তার বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নিয়েছে? যদি ব্যবস্থা না নেয় তাহলে তারা ধর্ষকদের পাহারাদার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে কি-না? যদি তারা ধর্ষকদের পাহারাদার হয় তাহলে জনগণ তাদের লাল কার্ড দেখাবে। যে ধর্ষনকারী আমাদের বোনদের দিকে চোখ দিবে সেই চোখ আমরা উপড়ে ফেলবো।
শাখা ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকারিয়া হোসাইন বলেন, ধর্ষণের বিচার চেয়ে আমাদের বারবার রাজপথে নামতে হয়। কিন্তু দেশে শাসনব্যবস্থার কোনো পরিবর্তন হয় না। বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা একটি ধর্ষণেরও বিচার করতে পারছে না। উল্টো আমরা দেখতে পাই, শুধুই ক্ষমতার পালাবদল। আমরা এই ধর্ষণের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই সেই সাথে দেশে সংঘটিত সকল অপকর্মের বিচার চাই। ফ্যাসিস্ট আমলের সকল অপকর্ম এখন একটি পক্ষ করা শুরু করেছে। আমরা দেখেছি একজন গভর্নরকে মব করে বিতাড়িত করা হয়েছে। আমরা আমাদের প্রতিবাদ জারি রাখবো। যতক্ষণ পর্যন্ত এই দেশে আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠা না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা প্রতিবাদ করতেই থাকবো।
উল্লেখ, গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদী থানার মহিষাশুড়া ইউনিয়নের বিলপাড় ও দড়িকান্দীর মধ্যবর্তী একটি সরিষা ক্ষেত থেকে কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় কিশোরীর মা বাদী হয়ে মাধবদী থানায় ৯ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
