হোম খুলনাযশোর মনিরামপুরের নেহালপুর ইউনিয়ন পরিষদে অনিয়ম-দুর্নীতি : একাধিক প্রকল্পের প্রায় অর্ধকোটি টাকা আত্মসাৎ ইউপি সচিবের

মনিরামপুরের নেহালপুর ইউনিয়ন পরিষদে অনিয়ম-দুর্নীতি : একাধিক প্রকল্পের প্রায় অর্ধকোটি টাকা আত্মসাৎ ইউপি সচিবের

কর্তৃক Editor
০ মন্তব্য 46 ভিউজ

মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি:

যশোরের মনিরামপুর উপজেলার নেহালপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতি-অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার ইউনিয়ন পরিষদে এক গণসভায় উপস্থিত সকলের সামনে এ অভিযোগ করেন পরিষদের ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম, আলেয়া বেগম, লাকী বেগম ও মুজিবর রহমান। তাদের অভিযোগ পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতি ও অনৈতিক কর্মকান্ড করে পরিষদের প্রায় অর্ধকোটি আত্মসাৎ করেছেন। যার কারণে তাদের সুনাম নষ্ট হচ্ছে বলে দাবী করেছেন ইউপি সদস্যরা। সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, উপজেলার নেহালপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব (প্রশাসনিক কর্মকর্তা) মিজানুর রহমান যোগদানের পর থেকে সরকারি কোন আইনকে তোয়াক্কা করে না। নিজের ইচ্ছামত অফিস করাসহ সকল কাজকর্ম করেন। গত দু’বছর ধরে সচিব মিজানুর রহমান নিজের খেয়াল খুশি মতো কাজ করার কারনে হয়রানী ও সেবা বঞ্চিত হচ্ছে মানুষ। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব আয় ট্যাক্স আদায়, ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু, ওয়ারিশ সনদ ইস্যু, গ্রাম আদালতের মামলার ফিসের আয় থেকে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছে। এছাড়াও বিভিন্ন ভুয়া প্রকল্প তৈরি করে আত্মসাৎ করেছেন আরও প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা। যার কোন হিসাব নিকাশ এ পর্যন্ত পরিষদে দেয়নি মিজানুর রহমান। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান থাকার কারনে ইউনিয়ন পরিষদের সকল সরকারি বরাদ্দ গোপন রেখে সে একক সিদ্ধান্ত নিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। গত অক্টোবর মাসে ভিজিডি চাল বিতরণে প্রতিটি কার্ডধারীর কাছ থেকে ৫’শ করে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। প্রতিমাসের ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের সভা না করে রেজুলেশন করেন। ভিডাব্লিউবি, মৎস্য ভিজিএফ, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহার ভিজিএফ এর চাল, জিআর চালের তালিকা প্রস্তুত, উত্তোলন ও বিতরণ ইউনিয়ন পরিষদের কোন সদস্যদের অবগত করেন না। তাছাড়া বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, মা ও শিশু সহায়তা ভাতা এবং ভিডাব্লিউবি, টিসিবির কার্ড দেয়ার কথা বলে একাধিক ভোক্তাদের কাছ থেকে প্রায় কয়েক লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। কোন ভাতার বরাদ্দ আসলে তিনি ইউপি সদস্যদেরকে অবহিত করেন না বা কোন সভা করে সিদ্ধান্ত নেন না। প্রতিটি জন্ম নিবন্ধনে ৩শ’ থেকে ৪শ’ টাকা আদায় করে দুই বছর সচিব কোন খাতে ব্যয় না করে আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ। সচিব প্রতিমাসে মাতৃত্বকালীন ভাতা কার্ড জনপ্রতি ৬ হাজার টাকা করে বিক্রি করেন। ভিজিডি ৬’শ কার্ড থেকে কার্ড প্রতি জনগনের কাছ থেকে ১৫০ টাকা হারে আয় করেছেন ৯০ হাজার টাকা। ৩ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে টিআর-কাবিখার ভুয়া প্রকল্প তৈরি করে সচিব কয়েক লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। ইউনিয়ন পরিষদের ট্যাক্সের টাকা চেয়ারম্যানের একাউন্টে থাকা স্বত্ত্বেও সচিব তার ব্যক্তিগত জমা রাখাসহ কাউকে কোন হিসাব দেয় না। মজার বিষয় হলো পরিষদের পাঠাগার সংস্কার বাবদ ৪ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়। সচিব কাউকে কিছু না বলে পুরাতন আসবাবপত্র, ভবনের দেয়ালে রং ও চুনকালি করিয়ে সমুদয় টাকা আত্মসাৎ করেছে। তিনি অধিক লাভের আশায় একজন ইউপি সদস্যকে দিয়ে ৩টি ওয়ার্ডে প্রকল্পের সভাপতি করেছেন। এমনকি ইউপি সদস্যদের সাথে অশালীন ভাষায় কথা বলার কারণে স্বাচ্ছন্দ্যে ইউনিয়ন পরিষদের কাজ করতে পারছে না ইউপি সদস্যরা। এতে করে জনসাধারণকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এক কথায় নেহালপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মিজানুরের কাছে টাকা ছাড়া মিলছে না কোন সেবা। ইউপি সদস্য ও এলাকাবাসী মহাদুর্নীতিবাজ সচিব মিজানুর রহমানকে তদন্ত মোতাবেক অপসারণ করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন। এ ব্যাপারে জানতে সচিব (প্রশাসনিক কর্মকর্তা) মিজানুর রহমানের ফোনে একাধিক বার কল করা হলে তিনি তা রিসিভ করেনি। ভারপ্রাপ্ত প্যানেল চেয়ারম্যান শওকত সরদার বলেন, সচিব অফিসে আসলে বিষয় গুলো তিনি খতিয়ে দেখবেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সম্রাট হোসেন জানান, কেউ অভিযোগ করলে বিষয় গুলো তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন