হোম অর্থ ও বাণিজ্য বেসরকারি ইপিজেডের নিয়ন্ত্রণ যাচ্ছে বেজার হাতে, নতুন অধ্যাদেশ জারি

বেসরকারি ইপিজেডের নিয়ন্ত্রণ যাচ্ছে বেজার হাতে, নতুন অধ্যাদেশ জারি

কর্তৃক Editor
০ মন্তব্য 47 ভিউজ

নিউজ ডেস্ক:
দেশে বিদ্যমান সব বেসরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) এখন থেকে সরাসরি বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)-এর নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হবে। এ লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ বেসরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল আইন, ১৯৯৬’ রহিত করে নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) আইন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ড. মো. রেজাউল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে জারি করা ‘বাংলাদেশ বেসরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (রহিতকরণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ সোমবার গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে।

নতুন অধ্যাদেশ কার্যকর হওয়ার ফলে ১৯৯৬ সালের আইনের অধীনে প্রতিষ্ঠিত দেশের সব বেসরকারি ইপিজেড এখন থেকে ‘বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল আইন, ২০১০’-এর আওতায় বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত হবে। এসব অঞ্চলের সার্বিক পরিচালনা, তদারকি ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব ন্যস্ত থাকবে বেজার ওপর।

তবে অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, পূর্ববর্তী আইনের অধীনে গৃহীত সব কার্যক্রম, সিদ্ধান্ত ও ব্যবস্থা বহাল থাকবে। ফলে প্রশাসনিক বা আইনি ধারাবাহিকতায় কোনো বিঘ্ন ঘটবে না।

অধ্যাদেশের ২(২-ক) ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে, পূর্ববর্তী আইনের আওতায় প্রতিষ্ঠিত বেসরকারি ইপিজেডগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলে রূপান্তরিত হবে এবং বেজা এসব অঞ্চলের উন্নয়ন ও পরিচালনা কার্যক্রম তদারক করবে। একই সঙ্গে উদ্যোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। আগের আইনের অধীনে ইস্যু করা লাইসেন্সগুলো বহাল থাকবে এবং নতুন করে লাইসেন্স গ্রহণের প্রয়োজন হবে না।

এ ছাড়া বেসরকারি ইপিজেডগুলোতে বিদ্যমান বন্ডেড সুবিধা এবং কর ও শুল্ক রেয়াত আগের মতোই কার্যকর থাকবে বলে অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অঞ্চলগুলোর কার্যক্রম সুষ্ঠু ও কার্যকরভাবে পরিচালনার স্বার্থে বেজা প্রয়োজনে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

অধ্যাদেশের মাধ্যমে বেসরকারি ইপিজেড পরিচালনার জন্য পূর্বে গঠিত গভর্নর বোর্ড ও নির্বাহী সেল বিলুপ্ত করা হয়েছে। নির্বাহী সেলে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষে বদলি হবেন এবং তাদের চাকরির বিদ্যমান শর্তাবলি আপাতত অপরিবর্তিত থাকবে।

এ ছাড়া বিলুপ্ত গভর্নর বোর্ড বা নির্বাহী সেলের পক্ষে কিংবা বিপক্ষে চলমান সব মামলা ও আইনি কার্যক্রম এখন থেকে বেজার নামে পরিচালিত হবে। এতে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও একক কর্তৃত্ব নিশ্চিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উল্লেখ্য, বিনিয়োগ ও রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ১৯৯৬ সালে বেসরকারি খাতে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল স্থাপনের সুযোগ দিয়ে আইনটি প্রণয়ন করা হয়। তবে সময়ের সঙ্গে অর্থনৈতিক অঞ্চলভিত্তিক উন্নয়ন কাঠামো বিস্তৃত হওয়ায় এবং নীতিগত সমন্বয়ের প্রয়োজন দেখা দেওয়ায় আইনটির কার্যকারিতা পুনর্মূল্যায়ন করা হয়। বর্তমান বাস্তবতায় এর প্রয়োজনীয়তা না থাকায় আইনটি রহিত করে নতুন অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ‘বাংলাদেশ বেসরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (রহিতকরণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন