নিউজ ডেস্ক:
সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ধরনে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে মেটা। হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুক—এই তিনটি প্ল্যাটফর্মের জন্য আলাদা প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন চালুর পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি। নতুন এই সাবস্ক্রিপশন বর্তমান ‘মেটা ভেরিফায়েড’ পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত নয় এবং এতে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য সীমাবদ্ধ কিছু বিশেষ সুবিধা যুক্ত হতে পারে।
এতদিন হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুক সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ব্যবহার করা গেলেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে বাড়তি বিনিয়োগ এবং উন্নত ফিচারের চাহিদা বাড়ায় বিকল্প আয়ের পথ খুঁজছে মেটা। প্রযুক্তি বিষয়ক বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, নতুন প্রিমিয়াম প্ল্যানে সংস্থার উন্নত এআইভিত্তিক টুল যুক্ত করা হতে পারে।
সূত্র অনুযায়ী, মেটার উন্নত ‘মানুস এআই এজেন্ট’ এই সাবস্ক্রিপশনের অন্যতম প্রধান অংশ হতে পারে। এর মাধ্যমে স্মার্ট রিপ্লাই, কনটেন্ট তৈরির সহায়তা এবং স্বয়ংক্রিয় কাজের সুবিধা বাড়বে। ইনস্টাগ্রামে যুক্ত হতে পারে এআইনির্ভর নতুন ফিচার, যেমন ‘ভাইবস’, যার মাধ্যমে স্বল্প দৈর্ঘ্যের সৃজনশীল ভিডিও তৈরি করা যাবে।
ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীদের দীর্ঘদিনের কিছু চাহিদাও প্রিমিয়াম প্ল্যানে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—কে ফলো করলেও পাল্টা ফলো করছে না, তা জানার সুবিধা এবং অন্যরা বুঝতে না পারার মতো করে স্টোরি দেখার অপশন। হোয়াটসঅ্যাপের ক্ষেত্রে উন্নত চ্যাট ফিচার, অতিরিক্ত কাস্টমাইজেশন ও এআই-চালিত সুবিধা যুক্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এসব বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি মেটা।
মেটার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন নেওয়া সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক। যারা অর্থ ব্যয় করতে চান না, তারা আগের মতোই বিনামূল্যে এই তিনটি অ্যাপ ব্যবহার করতে পারবেন। মূলত অতিরিক্ত সুবিধা ও উন্নত এআই ফিচার ব্যবহার করতে আগ্রহীদের লক্ষ্য করেই এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
নতুন এই উদ্যোগের সঙ্গে গোপনীয়তা সংক্রান্ত উদ্বেগও সামনে এসেছে। বিশেষ করে হোয়াটসঅ্যাপে বিজ্ঞাপন চালুর পর অনেক ব্যবহারকারীর প্রশ্ন—ব্যক্তিগত ডাটা ভবিষ্যতে এআই প্রশিক্ষণে ব্যবহার করা হবে কি না। মেটার দাবি, ব্যবহারকারীদের ডাটা সুরক্ষা নীতিতে কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না।
ব্যবহারকারীরা এই প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশনের জন্য অর্থ খরচ করতে কতটা আগ্রহী হবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে মেটার এই উদ্যোগ সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবসায়িক কাঠামোতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
