নিজস্ব প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরায় জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবেলা এবং নদী ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের লক্ষ্যে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পানি কমিটির উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভা থেকে বেতনা ও মরিচ্চাপ অববাহিকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) জোয়ারাধার পদ্ধতি বাস্তবায়নের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলা ডিজিটাল কর্ণারে সাস্টেইনেবল রিভার বেসিন ম্যানেজমেন্ট (এসআরএম): অ্যাডাপ্টিং ক্লাইমেট চেঞ্জ ইন দ্য সাউথওয়েস্ট বাংলাদেশ প্রকল্পের আওতায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা উত্তরণ ও সদর উপজেলা পানি কমিটির যৌথ আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পানি কমিটির সভাপতি মো. মফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার অর্ণব দত্ত, বিশেষ অতিথি ছিলেন সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. বদরুদ্দোজা। এছাড়া বক্তব্য দেন নদী ও পানি বিশেষজ্ঞ হাসেম আলী ফকির, বল্লী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মহিতুল ইসলাম, তালা উপজেলা পানি কমিটির সাধারণ সম্পাদক মীর জিল্লুর রহমান, সদর উপজেলা পানি কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রউফ বাবু, দপ্তর সম্পাদক মহুয়া মঞ্জুয়ারা, উত্তরণের প্রজেক্ট অফিসার দিলীপ কুমার সাহা, শেখ সেলিম আক্তার স্বপন, ফিল্ড অফিসার গোলাম হোসেন, যুব পানি কমিটির সভাপতি মো. হোসেন আলী, সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খলিলসহ অনেকে।
সভায় বক্তারা বলেন, ১৯৯০-এর দশক থেকে সাতক্ষীরা জেলার বেতনা, মরিচ্চাপ ও প্রাণসায়ের অববাহিকায় জলাবদ্ধতা সমস্যা ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। দিন দিন এ সমস্যা বাড়ছে এবং এর প্রভাব সুন্দরবন পর্যন্ত বিস্তৃত হচ্ছে। বেতনা, মরিচ্চাপ, প্রাণসায়ের, লাবণ্যবতী ও সাপমারা নদী পলি জমে মৃত কিংবা মুমূর্ষ অবস্থায় পৌঁছেছে। বর্ষা মৌসুমে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে মানুষ ঘরবাড়ি ও জীবিকা হারাচ্ছে, বিপন্ন হচ্ছে এলাকার জীববৈচিত্র্য।
সভা শেষে ইউএনও বরাবর প্রদত্ত স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, জলাবদ্ধতা নিরসনে বারবার নদী খনন, খাল খনন ও স্লুইসগেট সংস্কারের মতো সনাতনী পদ্ধতি প্রয়োগ করা হলেও তা কার্যকর হয়নি। মূল সমস্যা নদীতে অতিরিক্ত পলি জমা, যা টিআরএম বাস্তবায়ন ছাড়া দূর করা সম্ভব নয়।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, খুলনার ভবদহ ও কপোতাক্ষ অববাহিকায় টিআরএম বাস্তবায়নের মাধ্যমে সফলভাবে জলাবদ্ধতা দূর করা সম্ভব হয়েছে। একইভাবে সাতক্ষীরার বেতনা ও মরিচ্চাপ অববাহিকায় টিআরএম বাস্তবায়ন এবং ইছামতি নদীর সঙ্গে লাবণ্যবতী ও সাপমারা নদীর উন্মুক্ত সংযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
এছাড়া পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন আইডব্লিউএম-এর সমীক্ষা এবং ‘বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০’-এ বেতনা-মরিচ্চাপ অববাহিকায় টিআরএম বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বক্তারা দ্রুত টিআরএম বাস্তবায়ন, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতকরণ এবং জনগণ ও স্টেকহোল্ডারদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে টেকসই সমাধানের আহ্বান জানান।
