আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে দেশটির প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা রোববার (১৮ জানুয়ারি) সরকারি বাহিনী এবং কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ)-এর মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি ও পূর্ণ একীভূতকরণ চুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন।
সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানার প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, এই চুক্তির আওতায় সরকারি বাহিনী এবং এসডিএফ-এর মধ্যবর্তী সমস্ত ফ্রন্ট ও সংযোগ লাইনে অবিলম্বে এবং পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে। এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে সিরিয়ার ভূখণ্ডে কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
চুক্তির শর্তানুযায়ী, এসডিএফ-এর সঙ্গে যুক্ত সমস্ত সামরিক বিন্যাস ও বাহিনীকে ইউফ্রেটিস নদীর পূর্ব দিকের অঞ্চলগুলোতে প্রত্যাহার করা হবে, যা পরবর্তী সময়ে পুনর্বিন্যাসের একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে দেইর এজোর এবং রাক্কা প্রদেশ দুটি প্রশাসনিক ও সামরিকভাবে সম্পূর্ণ এবং অবিলম্বে সিরীয় সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এর মধ্যে ওই দুই প্রদেশের সমস্ত বেসামরিক প্রতিষ্ঠান ও সুযোগ-সুবিধা সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। সিরীয় সরকার আশ্বস্ত করেছে যে, দেইর এজোর এবং রাক্কায় বর্তমানে কর্মরত কর্মচারীদের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে বহাল রাখা হবে এবং এসডিএফ কর্মী বা বেসামরিক প্রশাসনের সদস্যদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না।
হাসাকা প্রদেশের ক্ষেত্রে চুক্তিতে বলা হয়েছে, এখানকার সমস্ত বেসামরিক প্রতিষ্ঠানকে সিরীয় রাষ্ট্রের প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে একীভূত করা হবে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সিরীয় সরকার ওই অঞ্চলের সমস্ত সীমান্ত পারাপার এবং তেল ও গ্যাসক্ষেত্রগুলোর নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করবে।
সানার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিরীয় বাহিনী এই গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে যাতে আহরিত রাজস্ব সরাসরি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হতে পারে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কৌশলগত সম্পদগুলোর ওপর কেন্দ্রীয় সরকারের পূর্ণ আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা’র এই ঘোষণা সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ পরবর্তী পুনর্গঠন ও স্থিতিশীলতার পথে একটি মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে মার্কিন সমর্থিত এসডিএফ-এর নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলো এখন কোনো রক্তপাত ছাড়াই সরকারি শাসনের অধীনে ফিরে আসছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই একীভূতকরণ চুক্তি সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের গতিকে ত্বরান্বিত করবে। এই চুক্তির ফলে উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক কাঠামোর সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।
