হোম আন্তর্জাতিক মাস্কের কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করলো তার সন্তানের মা

মাস্কের কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করলো তার সন্তানের মা

কর্তৃক Editor
০ মন্তব্য 38 ভিউজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইলন মাস্কের এআই কোম্পানি ‘এক্সএআই’-এর বিরুদ্ধে গুরুতর মামলা দায়ের করেছেন তার (ইলন মাস্কের) ১৬ মাস বয়সী ছেলে রোমুলাসের মা অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ার। লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অ্যাশলি অভিযোগ করেছেন, মাস্কের চ্যাটবট ‘গ্রক’ ব্যবহার করে তার অত্যন্ত অবমাননাকর ও যৌন উত্তেজক ‘ডিপফেক’ ছবি তৈরি করা হয়েছে, যা তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করেছে।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর আইনি লড়াইয়ের বিষয়টি উঠে এসেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল রব বোন্টা ইতিমধ্যেই মাস্কের কোম্পানিকে এই ধরনের অনৈতিক ও সম্ভাব্য অবৈধ কার্যক্রম বন্ধের জন্য আইনি নোটিশ প্রদান করেছেন।

অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ার বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্ক সিটির একটি আদালতে এই মামলাটি দায়ের করেন। তিনি জানান, গত বছর থেকে গ্রক দিয়ে তৈরি তার বিকৃত ছবিগুলো এক্স (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করলে তিনি বিষয়টি মাস্কের সংস্থাকে জানান। তবে প্ল্যাটফর্ম কর্তৃপক্ষ শুরুতে জানায় যে, ওই ছবিগুলো তাদের নীতিমালা লঙ্ঘন করেনি।

পরবর্তীতে তার ছবি বিনা অনুমতিতে ব্যবহার না করার প্রতিশ্রুতি দিলেও উল্টো অ্যাশলির এক্স প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন এবং ভেরিফিকেশন মার্ক সরিয়ে দিয়ে তার বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন। অ্যাশলি বলেন, ‘গ্রক যেভাবে আমার কুরুচিপূর্ণ ছবি তৈরি ও প্রচার করছে, তাতে আমি এক ভয়াবহ দুঃস্বপ্নের মধ্যে আছি এবং আমার মানসিক যন্ত্রণা দিন দিন বাড়ছে।’

অন্যদিকে, এই মামলার প্রতিক্রিয়ায় ‘এক্সএআই’ পাল্টা মামলা করেছে টেক্সাসের একটি ফেডারেল আদালতে। তাদের দাবি, অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ার ব্যবহারকারী চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করেছেন, কারণ ওই চুক্তিতে যেকোনো আইনি বিরোধ টেক্সাসের আদালতে মীমাংসা করার কথা উল্লেখ ছিল।

অ্যাশলির আইনজীবী ক্যারি গোল্ডবার্গ এই পাল্টা মামলাকে নজিরবিহীন বলে অভিহিত করেছেন এবং জানিয়েছেন তারা নিউ ইয়র্কেই এই আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন। তিনি আরও বলেন, নারীদের সম্মতি ছাড়াই তাদের যৌনতাপূর্ণ কৃত্রিম ছবি তৈরি করে এক্সএআই মূলত জননিরাপত্তার জন্য একটি হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইলন মাস্কের এই এআই চ্যাটবটটি বর্তমানে আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক সমালোচনার মুখে রয়েছে। যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারতসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ—যেমন ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন ও জাপান ইতিমধ্যেই গ্রক-এর ডিপফেক কার্যক্রম নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।

শুক্রবার জাপানি কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, এ ধরনের আপত্তিকর ছবি তৈরি বন্ধে তারা এক্স-এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছেন। অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ার সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এটি কেবল তার একার লড়াই নয়; এটি মূলত সেইসব এআই সিস্টেমের বিরুদ্ধে লড়াই যা কোনো জবাবদিহি ছাড়াই নারী ও শিশুদের অপব্যবহার করার সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন