মনিরামপুর প্রতিনিধি:
যশোরের মনিরামপুরে পৃথক ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় কমপক্ষে ৪জন গুরুতর জখম ও আহত হয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত মুলহোতারা বাদেই থানা পুলিশ দুইজনকে আটক করেছেন। দুই দিনের ব্যবধানে দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মণিরামপুরে জনসাধারণের মধ্যে চাপা আতংক বিরাজ করছে।
নিহত দুইজন হলেন, পৌর শহরের হাকোবা গ্রামের আব্দুল আজিজের বড় ছেলে মিন্টু হোসেন (৩৮) এবং উপজেলার চালুয়াহাটী ইউনিয়নের মোবারকপুর গ্রামের মৃত. মোজহার আলী মাস্টারের ছেলে আশরাফুল ইসলাম (৪০)। আহতরা হলেন, নিহত মিন্টুর ছোট তিন ভাই সেন্টু হোসেন, পিকুল হোসেন ও তাদের মা আমেনা বেগম এবং উপজেলার মোবারকপুর গ্রামের তারেক রহমান।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত ৯টার দিকে আশরাফুল ইসলাম নামে আওয়ামী লীগ নেতা রাজাগঞ্জ বাজারে আতাউর রহমানের চায়ের দোকানে বসেছিলেন। এ সময় কয়েকজন দুর্বৃত্ত অতর্কিতে এসে তাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। ছুরির কয়েকটি আঘাত তার বুকেও লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। আশরাফুল ইসলাম চালুয়াহাটি ইউপির ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। প্রতিবেশী তারেক এ সময় ঠেকাতে আসলে তাকেও মারপিট করে গুরুতর আহত করা হয়।
অপর দিকে, বৃহস্পতিবার ২৮ আগস্ট বিকালে ৫ হাজার টাকা চাইতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে কথাকাটি হয়। এক পর্যায়ে পৌর বিএনপির শ্রম বিষয়ক সম্পাদক সাব্বিরের নেতৃত্বে মিন্টুসহ তার পরিবারের ৪ সদস্যকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করা হয় বলে অভিযোগ উঠে। এ সময় গুরুত্বর আহত অবস্থায় মিন্টু হোসেন, সেন্টু হোসেন, পিকুল হোসেন ও তাদের মা আমেনা বেগমকে উদ্ধার করে মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
অবস্থার অবনতি হলে মিন্টু,সেন্টু ও পিকুলকে নেয়া হয় যশোর মেডিকেল হাসপাতালে তিনজনের মধ্যে মিন্টু ও সেন্টুর অবস্থা গুরুত্বর হওয়ায় ওই রাতেই নেয়া হয় ঢাকাতে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে মিন্টু হোসেন মারা যায়। এ ঘটনায় শনিবার সন্ধ্যায় নিহত মিন্টুর প্রতিবেশিরা হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতের আটকের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন।
মনিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ বাবলুর রহমান খান বলেন, পুলিশ অভিযান চালিয়ে সাব্বির ও ফারুক নামে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। অন্যন্যাদের আটকের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া রাজাগঞ্জ বাজারে কে বা কারা আশরাফুল ইসলামকে হত্যা করেছে তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা সম্ভব হয়নি। তবে হত্যার কারণ উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ তৎপর রয়েছে।