হোম জাতীয় ফের ১৭ ‘মা কচ্ছপ’ ১৮৯০টি ডিম দিয়ে ফিরছে সাগরে

জাতীয় ডেস্ক:

কক্সবাজার সমুদ্র উপকূলে আরও ১৭টি মা কচ্ছপ ডিম দিয়ে নিরাপদে সাগরে ফিরে গেছে। এসব কচ্ছপের ১ হাজার ৮৯০ ডিম সংগ্রহ করা হয়েছে।

এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বোরি) জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম।

তিনি জানিয়েছেন, সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাত থেকে মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভোর পর্যন্ত পৃথক সময় এসব মা কচ্ছপ উপকূলে এসে ডিম দেয়। এর মধ্যে টেকনাফের উত্তর শীলখালী, ছেপটখালী, মাদারবুনিয়া, হাবিবছরা পয়েন্ট থেকে কোডেক ন্যাচার অ্যান্ড লাইফ প্রজেক্টের কর্মীরা ১৪টি মা কচ্ছপের দেয়া ১৫৯৭ টি ডিম সংগ্রহ করেছে।

এছাড়া সোনারপাড়া পয়েন্ট থেকে বরির কর্মীরা ৩টি কচ্ছপের দেয়া ২৯৩ টি ডিম পেয়েছেন। মোট ১৭টি কচ্ছপের দেয়া ১৮৯০টি ডিম সংগ্রহ করে তাদের নিজস্ব হ্যাচারিতে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এনিয়ে গত ২ দিনে ২২টি কচ্ছপের দেয়া ২৪৫৬টি ডিম সংগ্রহ করা হয়েছে।

মো. তরিকুল ইসলাম জানান, এখন মা কচ্ছপের প্রজনন মৌসুম। নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত মা কচ্ছপ উপকূলে এসে ডিম দেয়। মা কচ্ছপ উপকূলে এসে গর্ত করে ডিম দেয়। যা মাটি দিয়ে চাপা দিয়ে সাগরে ফিরে যায়। এক সময় এসব ডিম প্রাকৃতিকভাবে ডিম থেকে বাচ্চা ফুটে সাগরে ফিরে যেত। কিন্তু পরে এসব ডিম কুকুর খেয়ে ফেলা ছাড়াও নানাভাবে নষ্ট হয়ে যেত। তাই এসব ডিম সংগ্রহ করে কয়েকটি সংস্থা তাদের সংরক্ষিত হ্যাচারিতে নিয়ে মাটিতে চাপা দেয়। যা বাচ্চা ফুটানোর জন্য সাগরে ছেড়ে দেয়ার কাজটি করেন সংশ্লিষ্টরা।

তিনি আরও জানান, যদিও কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত মৃত ভেসে এসেছে ১০৩টি মৃত মা কচ্ছপ। এর মধ্যে ১১ দিনে পাওয়া গেছে ৫৯টি মৃত মা কচ্ছপ। যার মধ্যে ৭ শতাধিক ডিমও সংগ্রহ করা গেছে।

বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম জানান, প্রতিটি কচ্ছপই জালের সুতোয় পেছানো এবং আঘাত প্রাপ্ত। উপকূলে ডিম দিতে আসার সময় জেলেদের ফেলে দেয়া জাল, রশিতে পেছিয়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে এসব কচ্ছপের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২ দিনে ২২ টি কচ্ছপ ডিম দিয়ে সাগরে ফেরা সুখবর।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন