আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
পশ্চিম তীর ও গাজায় তিনদিনের ইসরাইলি আগ্রাসনের পর জেনিন ছেড়ে যাওয়া ফিলিস্তিনিরা আবারও ফিরতে শুরু করেছেন শরণার্থী শিবিরে। যদিও, আবারও হামলার আশঙ্কায় কাটেনি আতঙ্ক। তবে হামলার কারণে সব হারিয়ে নিঃস্ব অনেক পরিবার। অভিযানের কারণে শরণার্থী শিবিরের বড় এলাকাজুড়ে পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে।
ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের জেনিন শরণার্থী শিবিরের বাসিন্দা ফাতিনা আল-ঘৌল। ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বরোচিত হামলায় তার বাড়ি এখন ধ্বংসস্তূপ। বাড়ির ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কার করতে ইতোমধ্যেই একটি বুলডোজার এসেছে পৌঁছেছে। নিজের বাড়ির ধ্বংসস্তূপের সামনে দাঁড়িয়ে সে দৃশ্য দেখে কাঁদছিলেন ফাতিনা আল-ঘৌল।
ফাতিনা বলেন, ‘আমরা পালাতে বাধ্য হয়েছিলাম। তা নাহলে আমার মেয়েদের ও আমাকে হত্যা করা হত। আমার বাড়ি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। সবকিছু ভেঙে গেছে এবং পুড়ে গেছে। সবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
ফাতিনা তাদের এমন অবস্থার জন্য ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের বাড়ি। আমরা ভয়ের মধ্যে বসবাস করছি। এটি রক্ষা করার জন্য আমরাই একমাত্র বাকি।’
তিনি বলেন, ‘আজ রাতে আমরা রাস্তায় ঘুমাব। এমনকি আমরা ঘরের ভেতরেও বসতে পারব না। আমাদের বা আমাদের প্রতিবেশীদের জন্য আর কোথাও যাওয়ার নেই।’
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলিদের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযানের সময় ফাতিনা আল-ঘৌলের সঙ্গে আরও নয়জন নারী তাদের পরিবার নিয়ে শিবির ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছিলেন। ইসরায়েলি সেনাদের শিবির ছাড়ার পর তারা আবার নিজেদের বাড়ির দিকে ফিরছেন।
ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এটিকে সন্ত্রাস-বিরোধী অভিযান হিসেবে বর্ণনা করেছে। তারা বলেছে, এই অঞ্চলে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর অস্ত্রের দোকান এবং উৎপাদন কেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়েছে।
তবে ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই অভিযানকে ‘জেনিনের জনগণের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য যুদ্ধ’ বলে নিন্দা করেছে।
ফিলিস্তিনিদের ওপর তেলআবিবের নৃশংস দমন-পীড়নের প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়েছে খোদ ইসরাইলি পার্লামেন্টেও। দুই দশক ধরে পশ্চিমতীরে ইসরাইলি বাহিনীর আগ্রাসনের বিরুদ্ধে স্পিকারের সামনে প্রতিবাদ জানান আরব ইসরাইলি রাজনীতিক নেসেট সদস্য আয়মান ওদেহ। বুধবার (৫ জুলাই) এ ঘটনার পর পার্লামেন্ট থেকে তাকে বিতাড়িত করা হলেও তিনি জানান, ফিলিস্তিনিরা নিজেদের বাঁচাতে যুদ্ধ চালিয়ে যাবে।
একইদিন ইসরাইলি বাহিনীর অভিযানে নিহতদের মরদেহ নিয়ে পশ্চিমতীরে বিক্ষোভ করেন হাজারো মানুষ। ইসরাইলি অভিযানের প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে গাজা উপত্যকায়ও। এসময় প্ল্যাকার্ড হাতে নেতানিয়াহু সরকার বিরোধী নানা স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা।
এদিকে, জেনিন শরণার্থী শিবির আর সন্ত্রাসীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র নেই বলে জানিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বিনইয়ামিন নেতানিয়াহু। সন্ত্রাস নিমূর্লে সেখানে আরও অভিযান চালানো হবে বলেও জানান তিনি।
