জাতীয় ডেস্ক :
কাগজের দাম বাড়ায় অমর একুশে বইমেলায় বই প্রকাশনা কম হবে, তবে মুড়ি-মুড়কির মতো বাজারে যেগুলো বের হয় এবার তা বন্ধ হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা। সম্প্রতি সময় সংবাদকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি।
কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা বলেন, কাগজের দাম বাড়ায় মানহীন বই ছাপার পরিমাণ কমবে।
তিনি আরও বলেন, কাগজের দাম বাড়ায় কমে যাবে বই প্রকাশনা এটা নিশ্চিত। মুড়ি-মুড়কির মতো বাজারে যে বইগুলো বের হয়, অমর একুশে বইমেলা উপলক্ষে সেগুলো বন্ধ হবে। এ বইমেলায় পাঁচ হাজার বই বের হয়, এখানে আমরা দেখেছি, এক হাজার বইও বই না। যেমন তেমন বই বের করে কাগজের অনটন সৃষ্টি করবে, এটা কিন্তু মূল সৃষ্টিশীলতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।’
চলছে অমর একুশে বইমেলার প্রস্তুতি। পুনর্বিন্যাস ভেঙে প্রযুক্তির ছোঁয়ায় গড়ে তোলা হচ্ছে এবারের বইমেলা প্রাঙ্গণ। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৬০৯টি প্রতিষ্ঠানের মোট ৮৫৮টি ইউনিট তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন নির্মাণশ্রমিকরা। তবে কাগজের মূল্যবৃদ্ধির কারণে এবার কমেছে নতুন প্রকাশনীর সংখ্যাও।
প্রকাশক খন্দকার সোহেল বলেন, প্রকৃত বই যারা পড়েন তারা আসলে বইমেলা উপলক্ষে একটি বাজেট রাখেন কেনার জন্য। যেহেতু কাগজের দাম দু-তিন গুণ বেড়েছে, যেমন ধরুন, বইটির দাম গতবার ২০০ টাকার মতো ছিল, এবার তা বেড়ে সাড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্তও বেড়ে যেতে পারে। দর্শক কীভাবে বিষয়টি নেবে–এটি নিয়ে আমরা সন্দিহান।’
বর্ণিল বর্ণমালায় রঙের আঁচড়। প্যাভিলিয়ন তৈরির তোড়জোড়ে জানান দিচ্ছে দুয়ারে কড়া নাড়ছে বাঙালির প্রাণের অমর একুশে বইমেলা।
নতুন বইয়ের মলাটের ঘ্রাণ বাংলাবাজারের চারপাশে গেলেই পাওয়া যাচ্ছে। নিয়মানুযায়ী চলছে বই বাঁধাইয়ের কাজ। বইমেলা এলেই শরিফুলের মতো অনেকে রাতদিন একাকার করে বই বাঁধাইয়ের কাজ করেন।
তবে মেলার প্রস্তুতিতে বাজার সরগরম থাকলেও কাগজের মূল্যবৃদ্ধির কারণে নতুন বই ছাপানোয় আগ্রহ নেই প্রকাশনা সংস্থাগুলোর। এতে বই বাঁধাইয়ে কিছুটা ভাটা পড়েছে কারখানাগুলোতে।
কাগজের দাম বৃদ্ধিকে এবারের বইমেলায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মনে করছেন প্রকাশকরা। তবে দামে খুব একটা প্রভাব পড়বে না বলে মত তাদের।
প্রযুক্তির ছোঁয়ায়, নতুনত্বের হাত ধরে, বইপ্রেমী, লেখক ও প্রকাশকদের পদচারণায় যেন প্রাণ ফিরে পায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যান–এমনটাই প্রত্যাশা সবার।
