জাতীয় ডেস্ক :
উচ্চ শব্দের হর্ন ব্যবহারের ফলে কানের সমস্যায় ভোগা ট্রাফিক পুলিশ ও রিকশাচালকের তালিকা চেয়েছেন হাইকোর্ট। ঢাকার দুটিসহ দেশের পাঁচ সিটি করপোরেশনের কাছে এ তথ্য চাওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৬ জানুয়ারি) এ বিষয়ে এক আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের একটি ডিভিশনাল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আগামী চার মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট পাঁচ সিটি করপোরেশনকে রেজিস্টার্ড ক্ষতিগ্রস্ত রিকশাচালকের তালিকা এবং পুলিশের মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) ক্ষতিগ্রস্ত ট্রাফিক পুলিশের তালিকা দাখিল করতে বলেছেন আদালত।
সেই সঙ্গে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালার ৭ ও ৮ বিধি অনুসারে দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং যথাযথ স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে রিকশাওয়ালা ও ট্রাফিক পুলিশের কাজের পরিবেশ তৈরিতে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং কেন নির্দেশনা দেয়া হবে না, তা জানতে রুল জারি করা হয়েছে।
এ ছাড়া রেজিস্টার্ড রিকশাওয়ালা এবং ক্ষতিগ্রস্ত ট্রাফিক পুলিশকে ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তা-ও জানতে চেয়ে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলেছেন আদালত।
এর আগে শুক্রবার (১৩ জানুয়ারি) যানবাহনের উচ্চ শব্দের হর্ন ব্যবহারের ফলে কতজন ট্রাফিক পুলিশ ও রিকশাচালকের কানে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, সে তালিকা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়।
মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি)-এর পক্ষে সংগঠনের চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ রিটটি করেন। পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে ক্ষতিপূরণ ও শব্দদূষণ রোধে জনস্বার্থে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি করেন তিনি।
ওইদিন আইনজীবী বলেন, ‘রাজধানীতে কোটি কোটি মানুষের বসবাস। কাজের তাগিদে প্রতিনিয়ত রাস্তায় বের হতে হচ্ছে জনসাধারণকে। সাধারণ মানুষ অল্পসময় রাস্তায় থাকলেও বেশি সময় রাস্তায় কাজ করতে হয় রিকশাচালক ও দিনমজুরসহ খেটে খাওয়া মানুষকে। এতে তাদের হর্নের উচ্চ শব্দ শুনতে হয় দিনের পর দিন। ফলে কানের ক্ষতি হচ্ছে তাদের। কানে শুনতে পাচ্ছেন না অনেকেই। এসব বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে ও ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশনা চেয়ে এ রিট করেছি।’
