আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
নেপালে প্রায়ই বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটে। সবশেষ রোববার (১৫ জানুয়ারি) পোখারা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৭২ আরোহী নিয়ে ইয়েতি এয়ারলাইনসের একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। গত ১ জানুয়ারি দেশটির প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দহল প্রচণ্ড বিমানবন্দরটি উদ্বোধন করেন। এখন প্রশ্ন উঠেছে: পোখারা বিমানবন্দরের নির্মাণকাজে কোনো ত্রুটি ছিল কি না?
নিউজ১৮-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) সহযোগিতার একটি ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্পের আওতায় পোখারার এই বিমানবন্দরটি নির্মাণে চীন ঋণ সহায়তা দিয়েছে।
এখন প্রশ্ন উঠেছে: বিআরআইয়ের সহযোগিতার অংশ হিসেবে চীনের সিএএমসি ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডের নির্মাণ কি যথেষ্ট ভালো ছিল না?
সূত্রে জানা গেছে, বিমানটি ল্যান্ড করার মাত্র ১০ সেকেন্ড আগে বিধ্বস্ত হয়েছে। ফলে নির্মাণকাজে কোনো ত্রুটি ছিল কি না, সেই বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
নেপালের একটি সূত্র সিএনএন এবং নিউজ১৮ কে জানিয়েছে, নেপালের প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দহল প্রচণ্ড ১ জানুয়ারি বিমানবন্দরটি উদ্বোধন করেন। এর আগে কাজ পুরোপুরি শেষ হওয়ার পর গত বছরের এপ্রিলে নেপাল সরকারের কাছে বিমানবন্দরটির দায়িত্ব হস্তান্তর করেন তৎকালীন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। হস্তান্তরের পর বিমানবন্দরে এটিই প্রথম দুর্ঘটনা। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় পোখরা ভ্যালির আবহাওয়া বিমান ল্যান্ডিংয়ের প্রতিকূল ছিল না। তারপরও কেন দুর্ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
অন্য একটি সূত্র বলেছে, পাইলটদের দক্ষতা নিয়ে বেশ কিছু সন্দেহ রয়েছে। এ ছাড়াও পোখারা বিমানবন্দরের অবস্থান একটি উদ্বেগের বিষয়। তাড়াহুড়ো করে বিমানবন্দরটি উদ্বোধন করা হয়েছে কি না এবং সম্ভাব্য বিপদগুলো বিবেচনায় নেয়া হয়েছে কি না, সেগুলো সামনে নিয়ে তদন্ত এগোতে পারে।
প্রথম সূত্রটি বলেছে, ২০১৪ সালের মে মাসে চায়না সিএএমসি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সঙ্গে বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য চুক্তি করেছিল নেপাল। পরে ২০১৭ সালে বিআরআই সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করে চীন ও নেপাল। এর অধীন প্রাথমিকভাবে নেপালের ৩৫টি প্রকল্প ছিল। পরে বেইজিংয়ের অনুরোধে প্রকল্প ছেঁটে ৯টিতে নামিয়ে আনা হয়। পোখারার পরিবর্তে লেক সিটিতে নতুন বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য নেপাল সরকার ২০১৬ সালের মার্চে চীনের সঙ্গে নতুন করে প্রায় ২১ কোটি ৬০ লাখ ডলারের চুক্তি করে। তবে এটি ঋণ নাকি অনুদানের অর্থে নির্মিত, তা নিয়েও বিভ্রান্তি রয়েছে।
উদ্বোধনের এক দিন আগে চীনা দূতাবাস এক টুইটারে লেখে, ‘এটি (পোখারা বিমানবন্দর) চীন-নেপাল বিআরআই সহযোগিতার প্রধান প্রকল্প। নেপালি সরকার এবং নেপালি জনগণকে আন্তরিক অভিনন্দন!’
প্রথম সূত্রটি আরও বলেছে, ‘গন্ডকি প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী বিমানবন্দর নির্মাণের ঋণটি অনুদানে পরিণত করার জন্য সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছেন।’
নেপালের সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অনুসারে, ইয়েতি এয়ারলাইনসের এটিআর ৭২ মডেলের বিমানটি ৭২ আরোহী নিয়ে রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে রোববার (১৫ জানুয়ারি) সকাল ১০টা ৩৩ মিনিটে পোখারার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। পুরোনো বিমানবন্দর ও পোখারা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মাঝামাঝি রানওয়েতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ৭২ আরোহীর মধ্যে ৬৮ যাত্রী ও ৪ ক্রু ছিলেন। বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় আরোহীদের সবাই নিহত হয়েছেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুসারে, পোখারা বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিমানটি পোখারা বিমানবন্দরের রানওয়েতে ল্যান্ড করার মাত্র ১০ সেকেন্ড আগে বিধ্বস্ত হয়।
এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের ওই কর্মকর্তা আরও জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে বিমাটির পাইলট বিমানবন্দরের পূর্ব প্রান্ত দিয়ে ল্যান্ড করার অনুমতি চান। তাকে অনুমতি দেয়াও হয়। কিন্তু একটু পরই পাইলট বিমানবন্দরের পশ্চিম প্রান্ত দিয়ে ল্যান্ড করার অনুমতি চান। এবারও তাকে অনুমতি দেয়া হয়। কিন্তু এবার ল্যান্ড করার মাত্র ১০ সেকেন্ড আগে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।
