খেলাধূলা ডেস্ক :
বেলজিয়ামের সাবেক কোচ রবার্তো মার্টিনেজকে পর্তুগালের কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন। সোমবার (৯ জানুয়ারি) বিষয়টি জানিয়েছে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন (এফপিএফ)।
কাতার বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের সোনালি প্রজন্মের বিদায়ের পর বেলজিয়ামের কোচের পদ আর আঁকড়ে থাকেননি দীর্ঘ ছয় বছর ধরে দায়িত্ব সামলে আসা রবার্তো মার্টিনেজ। প্রথম পর্ব থেকে বিদায় নিশ্চিত হওয়ার পরই কোচের পদ ছেড়ে দেন তিনি। এবার নতুন দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, ব্রুনো ফার্নান্দেজদের দলের দায়িত্ব।
এফপিএফ-এর সভাপতি ফার্নান্দো গোমেস এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন কোচকে পাশে নিয়ে বলেন, ‘যে উদ্যম ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার সঙ্গে তিনি (মার্টিনেজ) আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন, আমি তার প্রশংসা করছি। এটা আমাদের জাতীয় দলের জন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।’
এর আগে বেলজিয়ামের কোচের দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে মার্টিনেজ জানিয়েছিলেন, তিনি বেশ আগেই দলটির দায়িত্ব ছাড়ার বিষয়ে ভেবে রেখেছিলেন। এমনকি বেলজিয়াম কাতার বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলেও তিনি আর দায়িত্ব আঁকড়ে থাকতেন না।
এর আগে, ডেভিড অর্নস্টেইনের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য অ্যাথলেটিক জানিয়েছিল, দ্রুতই দারুণ প্রতিভাধর পর্তুগালের কোচের দায়িত্বভার গ্রহণ করছেন রবার্তো মার্টিনেজ। পত্রিকাটি জানিয়েছিল, আপাতত মৌখিক সম্মতি দিলেও আগামী সপ্তাহের শেষ নাগাদ চূড়ান্ত ঘোষণা আসবে।
বেলজিয়ামের দায়িত্ব ছাড়ার পর থেকেই বেশ কয়েকটি ক্লাব ও জাতীয় দলের নজর ছিল মার্টিনেজের ওপর। তবে শুরু থেকেই জাতীয় দলের দায়িত্ব নিতে ইচ্ছুক এই স্প্যানিশ রোনালদো, ব্রুনো, বের্নার্দো সিলভাদের গুরু হওয়ার লোভনীয় প্রস্তাবটিই লুফে নিচ্ছেন।
তার অধীন গত ছয় বছরে রেড ডেভিলরা খেলেছে রাশিয়া বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ও ২০২০ ইউরোর কোয়ার্টার ফাইনাল। তিনি ছাড়াও পর্তুগালের কোচ হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন কাতার বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের দায়িত্বে থাকা লুই ফন গাল। এ ছাড়া হোসে মরিনহোর নামেও ছড়িয়েছিল গুঞ্জন।
পর্তুগালের বর্তমান দলটি তারকায় ভরা। বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পর এখনও অবসর নেননি রোনালদো। জানিয়েছেন, ক্যারিয়ার টেনে নিতে চান ২০২৪ ইউরো পর্যন্ত। এ ছাড়া দলে আছেন ব্রুনো ফার্নান্দেজ, বের্নার্দো সিলভা, জোয়াও ফেলিক্স, রুবেন দিয়াসদের মতো তারকা।
পর্তুগালকে ২০১৬ সালে ইউরো ও ২০১৯ সালে উয়েফা নেশন্স লিগ জেতানো কোচ ফার্নান্দো সান্তোস কাতার বিশ্বকাপে তার নেয়া কিছু সিদ্ধান্তের কারণে বেশ সমালোচিত হন। বিশেষ করে শেষ ষোলো ও কোয়ার্টার ফাইনালে রোনালদোকে শুরুর একাদশে না রেখে ব্যাপক আলোচনার জন্ম নেন তিনি। কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর বিপক্ষে হেরে গেলে বিদায়ঘণ্টা বেজে ওঠে তার।
