হোম জাতীয় ফেনীতে অস্ত্রের মুখে স্কুলশিক্ষকের সব সম্পত্তি দখল

জাতীয় ডেস্ক :

অস্ত্রের মুখে ঘরে তালা ঝুলিয়ে স্কুলশিক্ষককে করা হয়েছে এলাকাছাড়া। ফেনীতে টাকা পরিশোধ না করেই কৌশলে তার কোটি টাকার সম্পত্তি রেজিস্ট্রি করে নিয়েছে একটি চক্র। জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন জনপ্রতিনিধিসহ স্থানীয়রা। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার চরচান্দিয়া ইউনিয়নের রামকুমার মহাজন বাড়ির রবীন্দ্র কুমার দাসের বসতভিটাসহ ১৯১ শতক ভূমি গত ২৮ ডিসেম্বর কৌশলে রেজিস্ট্রি করে নেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মোস্তফা মিঞার ছেলে আলমগীর হোসেন। পরে অস্ত্র ঠেকিয়ে প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে অটোরিকশায় তুলে দিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর।

সরেজমিন দেখা যায়, রবীন্দ্র কুমারের ঘরে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে ভূমিদস্যুরা। কৌশলে হাতিয়ে নিয়েছে তার সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি। বিনিময়ে দেয়নি একটি কানাকড়িও; বরং দিয়েছে প্রাণনাশের হুমকি। ফলে এখন তিনি বসতভিটা ছেড়ে অনেকটা আত্মগোপনে। রয়েছেন জীবনের আশঙ্কায়ও।

রবীন্দ্র কুমার দাস বলেন, ‘তারা প্রথমে আমাকে বলল, আপনাকে টাকা ফেনী নিয়ে একত্রে দিয়ে দিব। কিন্তু আমি বলেছি, আমার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকাটা জমা দিতে, পরে রেজিস্ট্রি হবে। কিন্তু তারা আমাকে বুঝাল, এখন ব্যাংকে লেনদেন করা ঠিক হবে না। সরকার ব্যাংক থেকে টাকা সরিয়ে নিচ্ছে। রেজিস্ট্রি হয়ে যাওয়ার পর ১০-১২ জন লোক আমাকে ঘিরে ফেলল। পরে তারা বলে, আপনি এখনই এলাকা ছাড়েন, আপনার নিরাপত্তা নাই। নাহয় এখনই আপনাকে আক্রমণ করা হবে।’

অবশেষে প্রতিকার চেয়ে চারজনকে অভিযুক্ত করে পুলিশ সুপারের কাছে সোমবার লিখিত অভিযোগ দেন স্কুলমাস্টার। ঘটনার পরদিন অভিযুক্তদের মধ্যে হারুন মাদকসহ গ্রেফতার হয়ে জেলহাজতে থাকলেও প্রধান অভিযুক্ত আলমগীর ও নাসির গা ঢাকা দিয়েছেন। অপর অভিযুক্ত যুবদল নেতা এ ঘটনায় তার নাম রাজনৈতিক কারণে জড়ানো হয়েছে বলে দাবি করেন।

অভিযুক্ত যুবদল নেতা খুরশিদ আলম ভূঁইয়া বলেন, ‘এ ঘটনায় অন্য অভিযুক্তরা জড়িত আছে কি না, সেটা প্রশাসন তদন্ত করে বের করবে। তবে আমি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। এমনকি এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।’

ঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতাসহ এলাকাবাসী এর দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানিয়েছেন। তারা জানান, যাদের নামে অভিযোগ তারা পরিচিত সন্ত্রাসী। তাদের নামে একাধিক মামলাও রয়েছে।

গ্রহীতাকে অনুলিপি না দিয়ে সমাধানের আশ্বাস সাবরেজিস্ট্রারের। আর অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা গ্রহণে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

সাবরেজিস্ট্রার আকরাম হোসেন রিয়াদ বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উক্ত দলিলের সার্টিফাইড কপি ও টিকিট পোস্ট পয়েন্ট করে আমাদের হেফাজতে রেখেছি। ওটা অভিযুক্তদের হাতে দিইনি।’

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দীন মোহাম্মদ বলেন, ‘জমি সংক্রান্ত যে অভিযোগ তারা করেছে, সে বিষয়ে তদন্ত করে আমরা আইনি ব্যবস্থা নেব।’

এক যুগেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষক রবীন্দ্র কুমার দাসের স্ত্রী এবং দুই সন্তান ভারতে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন