বাণিজ্য ডেস্ক :
ভারতের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হারদীপ পুরির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে আবারও জোরেশোরে উঠে এলো বাংলাদেশ-ভারতের জ্বালানি সহযোগিতার প্রসঙ্গ। ভারত থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি পেতে এবং দু’দেশের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনার প্রেক্ষিতে সহযোগিতার ক্ষেত্র আরো বাড়বে বলে এই বৈঠকে আশা প্রকাশ করা হয়।
বুধবার (৪ জানুয়ারি) ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে দেশটির পেট্রোলিয়াম মন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বিকেলে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠক শেষে সন্ধ্যায় দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন নসরুল হামিদ।
এ সময় ডিজেল আমদানি, ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশীপ পাইপলাইন, ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্ডিয়া লিমিটেড (EIL), জ্বালানি সহযোগিতা বৃদ্ধি, অভিজ্ঞতা বিনিময়, প্রশিক্ষণ ও মানব সম্পদ উন্নয়ন, এলএনজি আমদানি, অফসোর গ্যাস অনুসন্ধান ইত্যাদি বিষয় নিয়েও প্রতিমন্ত্রী আলোচনা করেন হারদিপ পুরির সঙ্গে।
হারদিপ পুরিকে উদ্ধৃত করে নসরুল হামিদ জানান, ‘জ্বালানি সহযোগিতার ক্ষেত্র বাড়াতে ভারত বাংলাদেশের সাথে নিবিঢ়ভাবে কাজ করবে। বাংলাদেশ জ্বালানি বাজার উন্মুক্ত করতে চাইলে ভারত প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে’। বৈঠকে পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের আধুনিকায়ন ও মানব সম্পদ উন্নয়নে একসাথে কাজ করা যেতে পারে বলেও মত ভারতের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রীর।
ভারত থেকে খুলনা হয়ে এলএনজি আমদানির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে জানিয়ে নসরুল হামিদ জানান, ভুটান-নেপাল-বাংলাদেশের ত্রিদেশীয় সঞ্চালন লাইনের বিষয়েও ভারতের কার্যকর সহযোগিতা পাওয়া যাবে। তিনি বলেন, শুধুমাত্র নীতি প্রণয়নের মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশ ভারতের জ্বালানির বাজারে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি কোম্পানিগুলোও বড় ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশেও এমন পদ্ধতি শুরু করতে, দেশটির কাছে নীতিগত ও কারিগরি সহায়তা নেয়ার কথাও বলেন বাংলাদেশের জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী।
এছাড়া, ভারতের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস এবং আবাসন ও নগর বিষয়ক মন্ত্রী আগামী ফেব্রুয়ারিতে ভারতের জ্বালানি সপ্তাহে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
মন্ত্রী পর্যায়ের দুই দেশের এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ সচিব মো. হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. মাহবুবুর রহমান ও ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. মোস্তাফিজুর রহমান।
