জাতীয় ডেস্ক :
মাত্র ৮ হাজারের নিবন্ধন থাকলেও বগুড়ার রাস্তায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে প্রায় ২৫ হাজার সিএনজিচালিত অটোরিকশা। বেশিরভাগ চালকের নেই লাইসেন্স। অদক্ষ চালকে সড়কে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। অনিয়ম দেখেও ব্যবস্থা নিচ্ছে না ট্রাফিক বিভাগ।
২০০৫ সালে বগুড়ায় আসে কমপ্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস (সিএনজি) চালিত অটোরিকশা। গেল ১৭ বছরে বাড়তে বাড়তে জেলায় বর্তমান সিএনজি থ্রি হুইলারের সংখ্যা প্রায় ২৫ হাজারে ঠেকেছে।
যদিও বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি- বিআরটিএর দেয়া তথ্য অনুযায়ী এরমধ্যে মাত্র ৮ হাজার নিবন্ধিত। তবে আরও বড় চিন্তার কারণ মোট চালকের বেশিরভাগেরই নেই থ্রিহুইলার ক্যাটাগরির ড্রাইভিং লাইসেন্স।
লাইসেন্স প্রার্থী এক চালক জানান, দুই বছর হলো আবেদন জমা দিয়েছি। বিআরটিএর অফিসে গেলে বলবে আজ আসেন, কাল আসেন। এটা বলে বলে গত দুই বছরেও আমার লাইসেন্স পাইনি।
অটোরিকশার ফিটনেস নিবন্ধন বিষয়ে এক চালক বলেন, ‘আমি ফিটনেস নবায়নের মেসেজ পেয়ে বিআরটিএতে টাকা জমা দিতে গেলে আমার টাকা নেইনি। তারা বলেছে, ছোট গাড়ির ফিটনেস নবায়ন বন্ধ আছে।’
তবে বিআরটিএ বলছে, থ্রি হুইলার ক্যাটাগরিতে ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদনই জমা পড়ে না। আর সড়ক মহাসড়কে অদক্ষ চালকের কারণে যানজটের পাশাপাশি ঘটছে প্রাণঘাতি দুর্ঘটনা।
বগুড়া বিআরটিএর সহকারী পরিচালক এ টি এম ময়নুল হাসান বলেন, ‘বেশির ভাগই মোটরসাইকেল, হালকা ও মাঝারি গাড়ির নিবন্ধনের আবেদন জমা পড়ে। থ্রি হুইলারের আবেদন খুবই নগন্য।’
এদিকে, নিবন্ধন কিংবা ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকলেও পথেঘাটে কাগজ চেয়ে পুলিশি হয়রানির উল্টো অভিযোগ অটোরিকশা চালকদের।
চালকরা বলছে, সব কাগজ ঠিক থাকলেও মাঝেমধ্যে হয়রানি করে, মামলা দেয়, জরিমানা করে।
আর অবৈধ এসব যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণে খুব বেশি তৎপরতা নেই ট্রাফিক পুলিশের।
এ অভিযোগে বগুড়া সদর ট্রাফিক পরিদর্শক মো. মাহবুবুল ইসলাম খাঁন বলেন, ‘তারা তো নিম্ন আয়ের লোক। সেদিকটা বিবেচনা করে তাদের প্রথমে সতর্ক করা হয় যে, আপনার কাগজপত্র ঠিক করবেন। কিন্তু একই লোককে এ সুযোগ দ্বিতীয়বার দেয়া হয় না।’
