হোম আন্তর্জাতিক সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে আটক ৫৪৭ জনকে মৃত ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধকালে আটক বহু বেসামরিক নাগরিকের মধ্যে ৫৪৭ জনকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। এদের মধ্যে বেশ কিছু শিশুও রয়েছে। সিরীয় সরকারের পক্ষ থেকে তাদের মৃত্যুসনদ ইস্যু করা হয়েছে। স্থানীয় এক মানবাধিকার সংস্থার বরাত দিয়ে এ খবর প্রকাশ করেছে রয়টার্স।

২০১১ সালে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। যা এখনও চলছে। এক দশকের এক সংঘাতে কমপক্ষে তিন লাখ আশি হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির অর্ধেক জনগোষ্ঠীই বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে গেছে। বিভিন্ন দেশে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিয়েছে অন্তত ষাট লাখ মানুষ।

রয়টার্সের প্রতিবেদন মতে, গৃহযুদ্ধকালে বহু বেসামরিক নাগরিককে আটক করে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ সরকার। কিন্তু আটক এসব মানুষ কোথায় আছে ও কেমন আছে, কিংবা আদৌ বেঁচে আছে কিনা সে সম্পর্কে কোনো তথ্যই পাওয়া যায় না।

এসব মানুষের আত্মীয়-স্বজন ও পরিবারের আশা, তাদের প্রিয় মানুষগুলো আজও বেঁচে আছে এবং একদিন না একদিন তাদের ছেড়ে দেয়া হবে। কিন্তু বছরের পর বছর কর্তৃপক্ষের নীরবতায় তাদের সেই আশা ক্রমেই ফিঁকে হয়ে আসছে।

স্থানীয় মানবাধিকার সংস্থা সিরিয়ার নেটওয়ার্ক ফর হিউম্যান রাইটস (এসএনএইচআর) জানিয়েছে, যে সব মানুষকে আটক করা হয়েছিল, তাদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৫৪৭ জনকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। সংগঠনটি আরও জানিয়েছে, সরকারের বিভিন্ন দফতর থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

মানবাধিকার সংস্থাটি বলেছে, ২০১৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ওই ৫৪৭ জনের মৃত্যুসনদ ইস্যু করেছে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে বেশ কিছু শিশুও রয়েছে। এসএনএইচআরের তথ্য মতে, গৃহযুদ্ধের পরের বছর তথা ২০১২ সালে ইয়াহিয়া হিজাবি ও তার দুই ছেলেকে আটক করা হয়। সম্প্রতি তাদের তিনজনের মৃতুসনদ হাতে পেয়েছে তারা। বিষয়টি তারা ইয়াহিয়ার পরিবার ও স্বজনদেরও জানিয়েছে।

অধিকার গোষ্ঠীটি বলেছে, শত শত নিখোঁজ মানুষের ভাগ্যে কি ঘটেছে এসব নথি তার উত্তর নিয়ে এসেছে। সংস্থাটির আশা, সিরীয় সরকারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচারে ক্ষেত্রে এসব নথি ব্যবহার করা হবে।

বাশার আল-আসাদ সরকারের এই আটক নীতির কারণে এর বিরুদ্ধে জাতিসংঘের একটি কমিশন ইতোমধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ করেছে। মানবাধিকার সংস্থাটি বন্দিদের মৃত্যু ও মৃত্যুসনদের ব্যাপারে জানতে চাইলেও কোনো মন্তব্য করেনি সরকার। অতীতে কারাগারে পদ্ধতিগত নির্যাতন ও গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সিরিয়ার কর্মকর্তারা।

সিরিয়ার গৃহযুদ্ধকালীন যুদ্ধাপরাধ বা মানবতাবিরোধী অপরাধ বিষয়ে সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে জাতিসংঘের তদন্তকারীরা বলেন, সিরিয়ায় গত দশ বছরের গৃহযুদ্ধের সময় আটক হওয়া লাখ লাখ বেসামরিক নাগরিক এখনও নিখোঁজ। আরও কয়েক হাজার ব্যক্তি হয় নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বা নিরাপত্তা হেফাজতে থাকার সময়ই মারা গেছেন।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন