হোম আন্তর্জাতিক অগ্নি-৫ পরীক্ষা : চীনের প্রতি ভারতের আগাম সতর্কবার্তা?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

সম্প্রতি অত্যাধুনিক অগ্নি-৫ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে ভারত। পরমাণু অস্ত্রবহনকারী ক্ষেপণাস্ত্রটির উৎক্ষেপণ সফল হয়েছে বলেও দাবি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের। এমন সময় ভারত এই ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালালো যখন চীনের তাওয়াং সীমান্ত নিয়ে দেশ দুটির মধ্যে উত্তেজনা চরমে। এটিকে তাই চীনের প্রতি ভারতের আগাম সতর্কবার্তা হিসেবেও আখ্যা দিচ্ছেন অনেক বিশ্লেষক।

ভারত অগ্নি-৫ মিসাইলকে তাদের সবচেয়ে বিপজ্জনক ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, সফলভাবে অগ্নি-৫ পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানো হয়েছে। ওড়িশার আবদুল কালাম দ্বীপ থেকে এ পরীক্ষা চালানো হয়।

পরীক্ষায় পরমাণু ওয়ারহেডের বদলে একটি ডামি ওয়ারহেড ব্যবহার করা হয় বলেও জানা গেছে। অগ্নি সিরিজের ক্ষেপণাস্ত্রের এ পরীক্ষায় নতুন কৌশল এবং সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছে। বিশেষ করে ওজনের দিক থেকে এ ক্ষেপণাস্ত্রটি আগের চেয়ে হালকা বলে দাবি ভারতের। যেটির ওজন ৫০ হাজার কেজি। ভারতের প্রতিরক্ষা জায়ান্ট ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ডিআরডিও) তথ্য অনুযায়ী, অগ্নি-৫ এর দৈর্ঘ্য ১৭.৫ মিটার এবং ব্যাস ২ মিটার।

‘নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্র’

অগ্নি-৫ সম্পূর্ণ ভারতের দেশীয় একটি ক্ষেপণাস্ত্র বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম। ডিআরডিও এবং ভারত ডায়নামিক্স লিমিটেড যৌথভাবে তৈরি করেছে অগ্নি-৫। ওড়িশা উপকূলের আব্দুল কালাম দ্বীপ থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটির পরীক্ষার দায়িত্বভার ছিল ভারতীয় সেনাবাহিনীর স্ট্র্যাটেজিক ফোর্সেস কমান্ডের।

রাশিয়াতেও আঘাত হানতে সক্ষম?

ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, অগ্নি-৫ ক্ষেপণাস্ত্র পাঁচ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। সে হিসেবে এটির নিশানায় একদিকে যেমন পাকিস্তান ও চীন রয়েছে, তেমনি রাশিয়া, ইউক্রেন এবং ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশও এর রেঞ্জের মধ্যে রয়েছে বলে দাবি নয়াদিল্লির।

পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম

অগ্নি-৫ ক্ষেপণাস্ত্র পরমাণু অস্ত্র বহন করতে সক্ষম। এর সঙ্গে দেড় হাজার কেজির পারমাণবিক ওয়ারহেড যুক্ত করা যাবে বলে দাবি ভারতের। অগ্নি-৫ এর রকেট বুস্টার তিনটি ধাপে স্থাপন করা হয়েছে, যা শব্দের গতির চেয়ে ২৪ গুণ বেশি দ্রুত গতিতে চলতে সক্ষম। সে হিসেবে এটি এক সেকেন্ডে ৮.১৬ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে।

চীনকে হুঁশিয়ারি?

সম্প্রতি অরুণাচল প্রদেশের তাওয়াংয়ে সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে ভারত ও চীনের সেনারা। এছাড়া লাদাখ সীমান্তেও প্রায়ই দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ছে নয়াদিল্লি ও বেইজিং। রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক কারণে অগ্নি-৫ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা নয়াদিল্লির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

তাই চীনের সঙ্গে সাম্প্রতিক দ্বন্দ্বের মধ্যেই অগ্নি-৫ এর মতো ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা ভারতের সক্ষমতার জানান দেয়ার পাশাপাশি দেশটির বিরুদ্ধে চীন যেকোনো পদক্ষেপ নেয়ার আগে দ্বিতীয়বার ভাবতে বাধ্য হবে বলেও মনে করেন বিশ্লেষকরা।

‘চীনের গোয়েন্দাগিরি’

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, দেশটির প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা চলতি মাসেই যে ওড়িশার উপকূলে দূরপাল্লার অগ্নি-৫ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাতে পারে তা আগে থেকেই আঁচ করতে পেরেছে চীন। তারই অংশ হিসেবে গত ৫ ডিসেম্বর চীনের গুপ্তচর জাহাজ ‘উয়ান ওয়াং-৫’ ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে প্রবেশ করে বলে দাবি ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের।

সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পশ্চিম উপকূলের সাহুল ব্যাঙ্ক এলাকায় ‘উয়ান ওয়াং-৫’ এর উপস্থিতি নজরে আসে ভারতের। প্রায় ২৩ হাজার টনের এ গুপ্তচর জাহাজটিতে উপগ্রহ এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণে নজরদারির জন্য আধুনিক সেন্সর রয়েছে। উন্নত প্রযুক্তিযুক্ত এ নজরদারি জাহাজ ভারতের নিরাপত্তায় বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে বলে শঙ্কা নয়াদিল্লির।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন