জাতীয় ডেস্ক :
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই মানুষের মৌলিক ও মানবাধিকার রক্ষা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি সংবিধানের অভিভাবক ও রক্ষক হিসেবেও মর্যাদাপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
রোববার (১৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, সুপ্রিম কোর্ট প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই মানবাধিকার রক্ষা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং দেশের যে কোনো ক্রান্তিলগ্নে বাংলাদেশ সংবিধানের অভিভাবক ও রক্ষক হিসাবে মর্যাদাপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন।
বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭২ সালের ১৮ ডিসেম্বর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট উদ্বোধন করেন। আজকে সেই ১৮ ডিসেম্বর, ২০২২ সাল। সেই সময় বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘এতো বিপদ আপদ, অভাব অনটনের মধ্যে শাসনতন্ত্র দিয়েছি, এতো তাড়াতাড়ি এজন্য যে, আইনের শাসনে বিশ্বাস করি। এজন্য শাসনতন্ত্র দেয়া হয়েছে, আশা করি আজ আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক। আমাদের শাসনতন্ত্র হয়েছে, বহু রক্ত গেছে, এদেশে আজ আমাদের সুপ্রিম কোর্ট হয়েছে, যার কাছে মানুষ ন্যায় বিচার আশা করেন।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘১৯৭৫ সালে বাবা-মা, ভাইবোনকে হত্যা করা হলো আর আমি বিচার চাইতে পারব না। অথচ তাদেরকেই অনেকে বিচারের ধারক-বাহক বলে। এ রকম পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ যেন আর না পড়ে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ দেশে আদালতে বোমা মেরে বিচারক হত্যা করা হয়েছে, আইনজীবীকেও হত্যা করা হয়েছে। আমিই যে শুধু গ্রেনেড হামলার শিকার হয়েছি তা নয়, আমাদের বিচারকরাও এ থেকে রক্ষা পাননি। জামায়াত-বিএনপি যখন বিরোধী দলে, তখন ঝালকাঠি ও গাজীপুরে এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছিল। তাদের অগ্নিসন্ত্রাস ও বোমাবাজি সম্পর্কে আপনারা জানেন। সেই ঘটনার পর থেকে আমরা বিচারকদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছি।’
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকাজ যারা করেছেন তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিচারকদের বিচার কাজের সুবিধার্থে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এমনকি তাদের জীবনযাপনের জন্য যতটুকু প্রয়োজন, সামর্থ্য অনুসারে ব্যবস্থা করা হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের সবসময় প্রচেষ্টা ছিল সর্বোচ্চ আদালত স্বাধীনভাবে চলবে। তাই তার আর্থিক ব্যবস্থাপনা যেটা আগে ছিল সরকারপ্রধানের হাতে, সেটা সম্পূর্ণভাবে সুপ্রিম কোর্টের হাতে হস্তান্তর করি। আলাদা বাজেট বরাদ্দ দিই। বিধিমালা প্রণয়নের ব্যবস্থা করি। স্থায়ী আইন কমিশন গঠন করি। জুডিশিয়াল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট বাংলাদেশে নেই; এটা খুব অবাককাণ্ড! আমি কিন্তু সেটাও তৈরি করে দিয়েছিলাম। আমাদের কোনো ড্রাফট উইং ছিল না। ড্রাফট উইংও তৈরি করে দিয়েছি। ১৯৯৬ সালে কেউ কম্পিউটার ব্যবহার করত না। আমি প্রধানমন্ত্রীর ফান্ড থেকে একটি কম্পিউটার কিনে প্রথম ড্রাফট উইং তৈরি করে দিয়েছিলাম। আর সেই সঙ্গে অ্যানেক্স ভবন তৈরি করে দিই।’
বিচার বিভাগের নানা উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে বিচারপতি, বিচারক ও আইনজীবীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের মতো কেউ যেন আর বিচারহীনতার কষ্ট না পায়।’
এ দেশের অগ্রযাত্রার চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলব। সবক্ষেত্রে ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে যেন অনলাইনে কাজ করতে পারি। যাতে সময় অপচয় না হয়।’
প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, আইন কমিশনের চেয়ারম্যান সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক প্রমুখ।
