হোম আন্তর্জাতিক বিক্ষোভকারীতে মারধর : যুক্তরাজ্য ছাড়ছেন চীনা কূটনীতিকরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

বিক্ষোভকারীর ওপর হামলা ইস্যুতে সৃষ্ট দ্বন্দ্বের জেরে যুক্তরাজ্য থেকে কূটনীতিকদের সরিয়ে নিচ্ছে চীন। ইতোমধ্যে সবচেয়ে সিনিয়র এক কূটনীতিকসহ দেশটির ছয় কর্মকর্তা যুক্তরাজ্য ছেড়েছে। ম্যানচেস্টারে চীনা কনস্যুলেটের সামনে সংঘটিত সহিংস হামলার প্রায় দুই মাস পর বুধবার (১৪ ডিসেম্বর) এসব কর্মকর্তাকে সরিয়ে নেয়া হলো।

গত অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি যুক্তরাজ্যে চীনা কনস্যুলেটে সামনে বিক্ষোভকালে হংকংয়ের স্বাধীনতাপন্থি এক বিক্ষোভকারীকে কনস্যুলেটের ভেতরে টেনে নিয়ে মারধর করা হয়। বিবিসির প্রতিবেদন মতে, কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি কনস্যুলেটের ভেতর থেকে এসে এক নারীকে জোর করে ভেতরে নিয়ে যায়।

পরে পুলিশ ও অন্য বিক্ষোভকারীদের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করা হয়। সেই সময় ওই বিক্ষোভকারী জানান, তাকে ভেতরে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়। যুক্তরাজ্য সরকার এ ঘটনাকে ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ বলে অভিহিত করে।

ম্যানচেস্টার পুলিশ এ ঘটনার তদন্ত শুরু করে। যুক্তরাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে চীনা কর্মকর্তাদের কূটনৈতিক দায়মুক্তির অধিকার ত্যাগ করে তদন্তে সহযোগিতার অনুরোধ জানানো হয়। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেমস ক্লেভারলির মতে, অনুরোধের পরও কূটনীতিকদের কেউই তদন্তে সহযোগিতা করেননি। এতে হতাশাও প্রকাশ করেছেন তিনি।

এ ঘটনার জেরে উভয় দেশের মধ্যকার সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে চীনা কূটনীতিকরা যুক্তরাজ্য ছাড়তে শুরু করে।

বিবিসির খবর, ইতোমধ্যে ছয়জন কূটনীতিকের একটি দল দেশে ফিরে গেছেন। ওই দলে কনস্যুলেটের প্রধান কর্মকর্তা কনসাল জেনারেল সিনিয়র কূটনীতিক ঝেং শিউয়ান রয়েছেন। কোনো বিক্ষোভকারীকে মারধর করার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।

যুক্তরাজ্যে চীনা কনস্যুলেটের সামনে প্রায়ই বিক্ষোভ প্রদর্শন করে মানবাধিকার কর্মীরা। এসব বিক্ষোভে চীনে সংঘটিত বিভিন্ন মানবাধিকার লংঘন ও নিপীড়নের কথা তুলে ধরেন তারা। গত ১৬ অক্টোবর এমনই এক বিক্ষোভে হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ ওঠে, বব চ্যান নামে হংকং বংশোদ্ভূত এক বিক্ষোভকারীর ওপর হামলা চালায় চীনা কূটনীতিকরা।

সেই সময় কনস্যুলেটের দায়িত্বে থাকা কনসাল জেনারেল শিউয়ান ওই হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেন। যদিও হামলার ঘটনার কিছু ছবিতে তাকে দেখা গেছে। যুক্তরাজ্যের হাউজ অব কমন্সের সিনিয়র এমপি অ্যালিসিয়া কেয়ার্নসও একই অভিযোগ করেন। পার্লামেন্টকে অ্যালিসিয়া বলেন, ‘আমরা যা দেখেছি তা হলো- চীনের কনস্যুল-জেনারেল শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের পোস্টার টেনে ছিঁড়ে ফেলছেন।’

প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে অবশ্য হামলার কথা স্বীকার করেন শিউয়ান। তবে তিনি বলেন, তিনি তার সহকর্মীদের রক্ষার চেষ্টা করছিলেন। আত্মপক্ষ সমর্থন করে তিনি বলেন, ‘তিনি (বব) আমার দেশকে, আমার নেতাকে গালি দিচ্ছিলেন। আমি মনে তাকে থামানো ছিল আমার দায়িত্ব।’

অবশেষে শীর্ষ কূটনীতিক শিউয়ান ও তার সহকর্মীদের সরিয়ে নেয়া হয়েছে। চীনের এই পদক্ষেপকে দ্বন্দ্ব অবসানের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন, লন্ডনে চীনা দূতাবাস পুরোপুরি অবগত ছিলেন যে কূটনীতিকরা যদি পুলিশ তদন্তে অংশ নিতে রাজি না হন তাহলে পরিণতি ভাল হবে না। সেক্ষেত্রে হয় চীনা কূটনীতিকদের যুক্তরাজ্য থেকে বহিষ্কার নতুবা অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হত।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন