জাতীয় ডেস্ক :
সংসদ থেকে পদত্যাগ বিএনপির হঠকারী সিদ্ধান্ত। আইনগত, সংসদীয় কার্যক্রম কিংবা রাজনৈতিক কোনো সংকট হবে না বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী সংসদ বিলুপ্তির সুযোগ নেই। সে ক্ষেত্রে আইনানুযায়ী পদত্যাগ কার্যকরের ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচনের মাধ্যমে পূরণ করতে হবে শূন্য আসন।
দলীয় টানাপোড়েনের মধ্যেই নির্দিষ্ট সময়ের শেষ মুহূর্তে এসে শপথ নিয়েছিলেন দলের মহাসচিব ছাড়া একাদশ সংসদে নির্বাচিত বিএনপির সদস্যরা। মহাসচিবের ছেড়ে দেয়া আসনে উপনির্বাচনে অংশ নিয়ে জয় পায় দলটি। গ্রহণ করে সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের এমপির পদও।
বিভিন্ন সময় পদত্যাগের গুঞ্জন থাকলেও গত পৌনে চার বছর বেশ সরবই থেকেছেন সংসদে। সাতজন সদস্য নিয়েও বিভিন্ন ইস্যুতে মাতিয়ে রেখেছেন সংসদ। তবে আগামী নির্বাচনের এক বছর আগে সংসদ থেকে ইস্তফার পথে হাঁটল বিএনপি। শনিবার গোলাপবাগের সমাবেশে সংসদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন বিএনপির এমপিরা।
রোববার (১১ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার পর জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে গিয়ে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন সাত সংসদ সদস্য (এমপি)।
স্পিকারের কাছে সশরীরে পদত্যাগপত্র দেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের মো. আমিনুল ইসলাম, বগুড়া-৪ আসনের মো. মোশাররফ হোসেন, বগুড়া-৬ আসনের গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের জাহিদুর রহমান এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।
এ ছাড়া দেশে বাইরে থাকায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য হারুন অর রশিদ এবং অসুস্থতার কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য আবদুস সাত্তারের পক্ষে পদত্যাগপত্র জমা দেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।
পদত্যাগের আগে বিএনপির এমপিরা জানান, তারা এ সরকারকে ক্ষমতায় দেখতে চান না। সরকারের অনিয়মের কারণে তারা অসন্তুষ্ট।
যদিও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপির সংসদ সদস্যরা পদত্যাগ করলেও জাতীয় সংসদের কিছু যায়-আসে না। তাদের সাতজন চলে গেলে সংসদ অচল হবে না।
এদিকে বিশ্লেষকদের মতে, নিজ স্বাক্ষরে নিয়মানুযায়ী পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার পরই সেটি কার্যকর বলে বিবেচিত হয়ে থাকে। গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচনের মাধ্যমে সেই শূন্য আসন পূরণ করতে হবে। তবে পদত্যাগে সাংবিধানিক অধিকার থাকলেও বিএনপির এই সিদ্ধান্ত কতটা বাস্তবসম্মত, সে নিয়ে প্রশ্ন আছে তাদের মধ্যে।
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক কাজী আবদুল হান্নান বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে তাদের দাবি অনুযায়ী তারা সাধারণ আলোচনায় যেতে পারতেন সংসদে, বিশেষ আলোচনায় যেতে পারতেন, অনাস্থা প্রস্তাব আনতে পারতেন। কিন্তু কিছুই তারা করেননি।’ এ সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে আরও চিন্তা করার দরকার ছিল বলেও মত দেন তিনি।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক হারুন-অর-রশিদ এটিকে হঠকারী সিদ্ধান্ত বলেই মনে করছেন। তিনি বলেন, ‘রাস্তার গণ-আন্দোলন যখন তুঙ্গে ওঠে, তখন সংসদ সদস্যরা পদত্যাগ করলে দুটির সমন্বয়ে একটি আন্দোলন তৈরির সুযোগ থাকে, গণ-অভ্যুত্থানের সুযোগ থাকে। কিন্তু এখন কি সেই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বাংলাদেশে? বিএনপি হয়তো মনে করছে ,পদত্যাগ করে তারা আন্দোলন আরও জমাতে পারবে। কিন্তু ফলাফল তার উল্টো হবে।’
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপির সংসদ সদস্যের পদত্যাগে আইনগত কিংবা সংসদীয় কার্যক্রমে কোনো সংকট হবে না। আর রাজনৈতিকভাবেও কোনো প্রভাব পড়ার লক্ষণ নেই। ফলে বিএনপি দাবি জানালেও বর্তমান সংবিধানে সুযোগ নেই সংসদ বিলুপ্তির।
