জাতীয় ডেস্ক :
হাওড় পাহাড় বেষ্টিত নেত্রকোনার সর্বত্র চলছে এখন নবান্ন উৎসব। জেলায় আমনের বাম্পার ফলন ও ন্যায্য মূল্য পাওয়ায় কৃষক পরিবারগুলোতে আনন্দের ঢেউ। গ্রামে গ্রামে খোলা মাঠে চলছে ধান সিদ্ধর কাজ। তবে কৃষকের আনন্দের পাশাপাশি নিম্ন আয়ের শ্রমিকদের অভিযোগ, যা আয় তা দিয়ে দুবেলা খাবার ব্যবস্থা করা সম্ভব হচ্ছে না।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, পরিবারের সব সদস্য মিলে আমন ফসল ঘরে তোলায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। এলাকার খোলা মাঠ, বিভিন্ন স্কুলের মাঠগুলোতে বড় বড় পাতিলে ধান সেদ্ধ হচ্ছে। নতুন ধান সিদ্ধর মৌ মৌ সুবাসে পুরো জেলা জুড়ে চলছে নবান্ন উৎসব।
জেলার বিভিন্ন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে গেছে, আমন চাষে কাঠা প্রতি খরচ হয়েছে ২ হাজার টাকা, বর্তমান বাজার মূল্যে ধান উৎপাদন ৪-৫ হাজার টাকার। এ পরিমাণ লাভে তারা অত্যন্ত আনন্দিত। তবে লাভবান হওয়ার পরেও কৃষক ও নিম্ন আয়ের মানুষের রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
মাহমুদপুর গ্রামের কৃষক চাঁন খাঁ ও আব্দুল হাই জানান, এবার ধানের দাম ভালো হলেও নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের এতো দাম যে ধান বিক্রি টাকায় পুরো সিজন পার হবে।
অন্যদিকে নিম্ন আয়ের শ্রমিকদের অভিযোগ, বেশির ভাগ ধান হারভেস্টার মেশিনে কাটার ফলে আমরা বেকার হয়ে গেছি। তাই ধানের দাম বাড়লেও আমাদের পেটে দুবেলা খাবার জুটছে না।
শ্রমিক সুরুজ আলী জানান, মেশিনের জন্য শ্রমিকদের একেবারে মাঠে মরার মতো অবস্থা। কৃষকদের জন্য লাভ হলেও আমরা পড়েছি বেকায়দায়। যেসব এলাকায় মেশিন নাই সেসব এলাকায় এককাঠা জমির ফসল কেটে পাই মাত্র ৬০০ টাকা। তাও সেটা নিয়মিত থাকে। তাই জীবন চালাতে পাশাপাশি রিকশা চালাই।
এদিকে কৃষি বিভাগের প্রধান কৃষিবিদ মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বলছেন, পোকা মাকড়ের আক্রমণ না থাকায় এবার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করে প্রায় ৫০০ হেক্টর বেশি আবাদ হয়েছে। স্বল্প জীবন চক্রের ধান আমন, ফলে কৃষকরা সে জমিতে অন্য ফসলও করতে পারবেন।
জেলায় এ বছর আমনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৩২ হাজার ৫৮০ হেক্টর। সে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৭৫ হেক্টর জমি এবার আমন চাষ হয়েছে।
