হোম আন্তর্জাতিক চীনে বিক্ষোভের পর করোনা বিধিনিষেধ শিথিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

তীব্র প্রতিবাদের মুখে করোনা বিধিনিষেধ শিথিলে বাধ্য হলো চীন সরকার। গত কয়েকদিনের আন্দোলনের জেরে গুয়াংজুতে করোনা বিধিনিষেধ বৃহস্পতিবার (০১ ডিসেম্বর) শিথিলের ঘোষণা দিয়েছে অঞ্চলটির প্রশাসক। চীনের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লেও নিরাপত্তা বাহিনীর দমনপীড়নে তা স্তিমিত হয়ে পড়েছে। তবে আন্দোলনকারীদের সমর্থনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। খবর রয়টার্সের।

গত সপ্তাহে চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ শিংজিয়াংয়ের একটি বহুতলভবনে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির পর ক্ষোভে ফুসে সাধারণ মানুষ। চীন সরকারের জিরো কোভিড নীতির বিরুদ্ধে শুরু হয় বিক্ষোভ। মুহূর্তেই বিক্ষোভের আগুন চীনের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনকারীদের আশঙ্কা, বিভিন্ন ভবনে আগুন লাগলেও কঠোর লকডাউনের কারণে তারা বাইরে বের হতে পারেন না। করোনা বিধিনিষেধবিরোধী বিক্ষোভ রূপ নেয় সরকারবিরোধী আন্দোলনে। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পদত্যাগেরও দাবি জানান বিক্ষোভকারীরা।

তবে নিরাপত্তা বাহিনীর দমনপীড়ন আর কঠোর অবস্থানের কারণে স্তিমিত হয়ে পড়েছে আন্দোলন। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, যেসব জায়গায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের মোবাইল ট্র্যাক করে ফোনে হুমকি এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। বিক্ষোভ চরম রূপ নিলেও এ নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে কোনো খবর প্রকাশ করা হচ্ছে না। আন্দোলনের মুখে এরই মধ্যে নিজেদের অবস্থান থেকে সরে এসেছে চীন সরকার। দেশটির গুয়াংজু শহরে শিথিল করা হয়েছে করোনা বিধিনিষেধ।

একজন বিক্ষোভকারী বলেন, আমার বাড়ি সাংহাই শহরে। সেখানে আমার অনেক আত্মীয় রয়েছে। সেখানে অনেক বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। তাদের মুক্তির দাবিতেই আমি এখানে আন্দোলনে অংশ নিয়েছি। এই প্রথম চীনারা প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেছে। তারা কমিউনিস্ট পার্টির শাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াচ্ছে।

চীনের আপাতত তেমন কোনো বিক্ষোভ না হলেও আন্দোলনকারীদের সমর্থনে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে। বুধবার (৩০ নভেম্বর) জাপানের রাজধানী টোকিওর রাস্তায় নেমে বিক্ষোভকারীদের ওপর চীন সরকারের দমনপীড়নের প্রতিবাদ জানান শত শত মানুষ।

জাপানের এক নাগরিক বলেন, চীনের সাধারণ মানুষকে বলতে চাই, আমরা আপনাদের পাশে রয়েছি। এই শাসকের পতন ঘটা দরকার। আমি মনে করি, এই আন্দোলনে অংশ নেয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

বিক্ষোভ হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলেও। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক এবং টরেন্টোয় রাস্তায় নেমে চীনা বিক্ষোভকারীদের প্রতি সহমর্মিতা জানান শত শত মানুষ। চীনের লকডাউনবিরোধী আন্দোলনে যুক্তরাষ্ট্রের পর কানাডাও সমর্থন জানিয়েছে। বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেন, যেকোনো আন্দোলন গণতান্ত্রিক অধিকার। আর সেই অধিকার প্রতিষ্ঠায় কানাডার পূর্ণ সমর্থন অব্যাহত থাকবে।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন